ওয়ান ইলেভেন সরকার গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে দেশত্যাগের হুমকি দিয়েছিল আর এখন শেখ হাসিনা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখাচ্ছে—গ্রেপ্তারে ভয় পায় না খালেদা জিয়া—সমাবেশে এ কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়াজ মুহাম্মদ ঊচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
আমাকে বন্দি করার আগে আপনার পথ পরিষ্কার করে রাখুন, যাতে দ্রুত বের হয়ে যেতে পারেন বলে জানান খালেদা জিয়া।
বিএনপি জোট ভাঙবে না, বিএনপি জোট শক্তিশালী, কারও কথায় এ জোট ভাঙবে না বলেও এ সময় উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন,‘অনেকে বলছেন বিএনপি জোটে নাকি ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিএনপি জোটর কেউ ভাঙবে না। বিএনপি জোটের কেউ মুনাফিক-বেইমানদের সঙ্গে যেতে পারে না। আজকে দেশের এ অরাজক সময়ে তারা আরো ঐক্যবদ্ধ হবে।'
দেশের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে—এ মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, প্রতিদিনই দেশে গুম খুনের ঘটনা ঘটছে।
বিচারকদের ক্ষমতা নিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, এখুনি বিচারকরা অসহায়, আর অভিশংসন ক্ষমতা করে তাদের হাত বেঁধে দেয়া হবে। এ আইন করা বন্ধ করুন।
এ আইন বাতিলের দাবিতে আমরা এখন শুধু হরতাল করেছি, প্রয়োজনে যে কোনো কর্মসূচি দেব। জনবিরোধী কোনো আইন দেশের জনগণ মেনে নেবে না বলেও এ সময় জানান খালেদা জিয়া।’
পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেন, দেশের কোষাগার থেকে আপনারা বেতন নেন সুতরাং আওয়ামী লীগের পাহারাদার হয়ে কাজ করবেন না। নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করুন।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা আজ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এ থেকে দেশের মেধাবী সন্তানদের রক্ষা করতে হবে।
খালেদা জিয়া দেশে গণতন্ত্র রক্ষায় আপামর জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে এ জালিম, খুনি, অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ দেশের কোটি কোটি টাকা লুটপাট করছে আর দোষ দিচ্ছে বিএনপি সরকারের—এ কথা উল্লেখ করে বর্তমান সরকারের টাকা লুটের ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরেন তিনি।
‘বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার শেয়ারবাজার, সোনালী ব্যাংক, হলমার্ক, ডেসটিনিসহ বিভিন্ন করপোরেট অফিস থেকে টাকা তুলে দেউলিয়ার মুখে ঠেলে দিয়েছে। রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংক দেউলিয়ার মুখে পড়েছে।’-- বলেন খালেদা জিয়া।
সরকার নিজেই আইন লঙ্ঘন করছে— মন্তব্য করেন সাবেক এ বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, 'এরপরও এ সরকার জাতীয় সংসদে একটার পর একটা আইন পাস করে যাচ্ছে। সংবিধান সংশোধন করছে এভাবে সরকার নিজেই সংবিধান ও আইন লঙ্ঘন করছে।'
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকার অবৈধ— এ সরকারের আমলে ২০ দলের নেতাকর্মীদের খুন-গুম করা হচ্ছে। এ সরকারের আমলে ৩১০ জন নেতাকর্মীকে হত্যা ও ৫৬ জনকে গুম করা হয়েছে।
লুটপাট, হত্যা ও খুন করাই আওয়ামী লীগের কাজ—এ সরকার অবৈধ সরকার, খুনি সরকার বলে অভিহিত করেন তিনি।
অবৈধ এ সরকার র্যা বকে ব্যবহার করে খুন-গুম করাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাবেশ।
মঙ্গলবার বেলা পৌনে ২টার দিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহরের নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠের মঞ্চে পৌঁছেছেন।
এরইমধ্যে শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছোট ছোট দলে জোটের নেতা-কর্মীরা সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন।
সমাবেশে যোগ দিতে এখন পথে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দুপুর ১২টায় রাজধানীর গুলশানে তাঁর বাসা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
তার এ সফরকে কেন্দ্র করে এরইমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা বিএনপি নেতারা।
খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে শহর এবং শহরতলীর বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২ শতাধিক তৌরণ নির্মাণ করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন সড়ক ব্যানার প্লে-কার্ড পোস্টারে ছেয়ে গেছে।
কিন্তু গত দুই দিন ধরে বৈরী আবহাওয়া এবং ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে খালেদা জিয়ার সমাবেশস্থল নিয়াজ মোহাম্মদ ঊচ্চ বিদ্যালয় মাঠের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জেলায় ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হয়।
সমাবেশের আগে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল জনান, আজকের সমাবেশে প্রায় দুই লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে।
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগাম নির্বাচনের দাবিতে এবং গুম-খুন-নির্যাতন, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ও বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে ২০-দলীয় জোট আজ দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সমাবেশ ডেকেছে বলে জানান তিনি।