পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
এদিকে, লতিফ সিদ্দিকীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বুধবার সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে জাতীয় পার্টি।
এরশাদ বলেন, 'যেখানে দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং সংবিধান অনুসারে কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা যাবে না— সেখানে লতিফ সিদ্দিকী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।
তাই সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে তাকে অভিযুক্ত করতে হবে। এর জন্য শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না। দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে বিবৃতিতে জানান তিনি।'
গত রোববার নিউইয়র্কে স্থানীয় টাঙ্গাইল সমিতি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, 'আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামাতে ইসলামীরও বিরোধী।' তার মতে, এতে শ্রমশক্তির অপচয় হয়, উৎপাদনে প্রভাব পড়ে।
লতিফ সিদ্দিকীর ওই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
বিবৃতিতে এরশাদ বলেন, 'ইসলামের চার স্তম্ভের অন্যতম হজ। তা নিয়ে লতিফ সিদ্দিকী যে জঘন্য ও কুৎসিত মন্তব্য করেছেন তার নিন্দা প্রকাশেরও ভাষা আমার জানা নেই। হজের ব্যাপারে আজ পর্যন্ত অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীরাও এ ধরনের কুৎসিত মন্তব্য করেনি। সেখানে বাংলাদেশের মতো একটি মুসলিম-অধ্যুষিত দেশে— যেখানে ৯০ ভাগই মুসলিম জনগোষ্ঠী, তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানার মতো লতিফ সিদ্দিকী যে জঘন্য কাজ করেছেন, তা এ দেশের জনগণ কখনো এবং কোনোভাবেই মেনে নেবে না।'
এরশাদ বলেন, 'দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম নারী, তিনি বহুবার হজ পালন করেছেন, সেখানে লতিফ সিদ্দিকীর এই উক্তির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ধর্ম বিশ্বাসের ওপরেও চরম আঘাত হেনেছেন।'
এদিকে, বিকেলে দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. জুয়েল সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার বিকেল ৪টায় কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে হবে এ প্রতিবাদ সমাবেশ। ওই সমাবেশে দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ উপস্থিত থাকবেন।