আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন তার ছোট ভাই কাদের সিদ্দিকী।
শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বড় ভাইয়ের জন্য আল্লাহ ও দেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চান।
এ সময় তিনি বলেন, 'জীবনে বহু কষ্ট পেয়েছি কিন্তু কখনও আল্লাহর প্রতি ইমান হারায়নি। কিন্তু আমার বড় ভাই তা করেছেন। আমার বড় ভাইয়ের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আমি ক্ষমা চাচ্ছি। আমার ভাই এ দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছেন, ধর্মপ্রাণ মুসনমানরা এর তীব্র প্রতিবাদ করেছে। আমার বড় ভাই এ বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন কিনা জানি না। তবে আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আমি দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।'
তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী আমার কেউ না, কিন্তু আল্লাহর প্রদত্ত হিসেবে তিনি আমার বড়ভাই। এ সম্পর্ক কেনা যায় না। আমাদের ধমনিতে একই রক্ত প্রবাহিত। জীবনে বহু কষ্ট করেছি, বহুবার বিপদে পড়েছি কিন্তু আল্লাহর উপর থেকে আস্থা হারাইনি। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি আমার বড়ভাইকে হেদায়েত করুন।'
তিনি বলেন, 'আমার বড় ভাই পবিত্র হজ সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তাতে আল্লাহ ক্ষমা করবেন কি-না আমি জানি না। তবে পরিবারের সদস্য হিসেবে আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে ক্ষমা করেন।'
কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে শুধু বলতে এসেছি, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লতিফ সিদ্দিকী, মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী আমার কেউ নন। আল্লাহ প্রদত্ত সম্পর্ক অনুযায়ী তিনি আমরা বড় ভাই। এই সম্পর্ক বাজার থেকে কেনা যায় না। আমাদের ধমনীতে একই রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। আমাদের বাবা-মা এক।
মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করেছেন তিনি— সেজন্য ছোট ভাই হিসেবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে বলছি, দয়া করে আমার বড় ভাইকে আপনি ক্ষমা করুন।
লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে।
আমি শুধু বড় ভাইয়ের এহেন বক্তব্যের ক্ষমা চাইতে এসেছি। যদি তিনি (বড় ভাই) তার বক্তব্যের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা না করেন। তাহলে আইনের বিধানে বিচার যা হবে, তা-ই হবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যে মুসলামরা মর্মাহত হয়েছে। আমরাও ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছি। আমি মসুলমান পরিবারের জন্মগ্রহণ করেছি। একজন মুসলমান হিসেবে আমি বলতে চাই, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যে দলীয়ভাবে নিন্দা জানিয়েছি।
এদেশের জনগণ ওই আপত্তিকর বক্তব্যের যেভাবে প্রতিবাদ করেছেন, আমি তাদের মোবারকবাদও জানাচ্ছি।
এ সময় তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করেছি, কেউ আমাকে বাঘা সিদ্দিকী বলেছে। রাষ্ট্র আমাকে বীরোত্তম উপাধি দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু আমাকে বঙ্গবীর বলে ডাকতেন। তার কন্যা আমার ভাগ্নি আমাকে পাগলের উপাধি দিয়েছেন। আমি শুধু বলব, আল্লাহ তাকে হেদায়েত করুন।
এর আগে লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য সম্পর্কে দলের অবস্থান তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার।
তিনি বলেন, মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সম্প্রতি নিউইয়র্কে হজ সম্পর্কে বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য তার এবং তার দল আওয়ামী লীগের প্রতি গভীর নিন্দা জ্ঞাপন করছি। ওই ন্যাক্কারজনক ঘোরতর আপত্তিকর বক্তব্য শুধু তার (আবদুল লতিফ সিদ্দিকী) একার হতে পারে না।
সংবাদ সম্মেলনের কাদের সিদ্দিকীর স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকী, দুই মেয়ে কুরি সিদ্দিকী ও কুশি সিদ্দিকী এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।