নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে সরকার গ্রেপ্তার না করায় আগামী ২৬ অক্টোবর দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক বহাল রেখেছে সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহ।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জোটের মহাসচিব মওলানা জাফরুল্লাহ খান এ কর্মসূচি আবারো ঘোষণা করেন।
জাফরুল্লাহ খান বলেন, ইসলামী দলসমূহের বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার না করায় এ কর্মসূচি বহাল রাখা হযেছে।
নাস্তিক মুরতাদ সাবেক এ মন্ত্রীর শরিয়া মোতাবেক বিচার করতে হবে— লতিফ সিদ্দিকী জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে, বার বার আলটিমেটামের সময় বাড়ানো পরও সরকার কোনো উদ্যোগ না নেয়নি তাই এ হরতালের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হচ্ছি।
লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপকে ‘আইওয়াশ’ উল্লেখ তিনি আরো বলেন, দেশবাসীকে ধোকা দিয়ে বোকা বানানোর এ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।
২২ অক্টোবরের মধ্যে লতিফ সিদ্দিকীকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছিল ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দল।
বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা না হলে ২৬ অক্টোবর হরতালের হুমকি দিয়েছিল সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহ।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারে সরকারকে ১৫ অক্টোরব পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছিল ইসলামী দলগুলো।
উল্লখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে স্থানীয় টাঙ্গাইল সমিতি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী।’ তার মতে, এতে শ্রমশক্তির অপচয় হয়, উৎপাদনে প্রভাব পড়ে।
এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় ও টক শোর আলোচকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
এ নিয়ে দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ, গণমিছিল ও মানববন্ধন করে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। মামলা হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়। আদালত সমনও জারি করে। ফলে মন্ত্রিসভা ও দল থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় সরকার। ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভা ও আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর পদ থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়। এরইমধ্য আদালত তার বিরুদ্ধে ২ দফায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।