তারেককে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনী প্রক্রিয়া চলছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। শুক্রবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, তারেকের এ ধরনের বক্তব্য কুৎসিত মিথ্যাচার ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং তার এ বক্তব্য ধৃষ্টতাপূর্ণ ক্ষমাহীন অপরাধ। তাই আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এ বিকৃত মানসিকতার অধিকারী আসামীকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
তারেক মূর্খ ও ইঁচড়ে পাকা— উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য ইতিহাস সম্পর্কে নির্লজ্জ মিথ্যাচার, উন্মাদ ও নেশাগ্রস্তের প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয়।
তিনি আরো বলেন, পলাতক আসামী, সন্ত্রাসী, খুনী, দুর্বৃত্ত ও জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমান লন্ডনে বসে যা বলছেন তা ইতিহাস সম্পর্কে নির্লজ্জ মিথ্যাচার। এটা উম্মাদ কিংবা নেশাগ্রস্তের প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয়, যার উত্তর দেয়াও অরুচিকর।
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তারেকের বাবা জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের এজেন্ট ছিলেন। মা খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন সময়ে পাক হানাদার বাহিনীর আতিথেয়তা গ্রহণ করে ছিলেন। এসব কথা বলে আতিথেয়তা গ্রহণকারী মায়ের ঋণ পরিশোধ করছে তারেক।
তারেকের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, জাতির পিতা পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তিলাভ করার সময় ওই দেশের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না আর এ জন্য দূতাবাসও ছিল না। সুতরাং পাসপোর্টের প্রসঙ্গ আসবে কেন? বঙ্গবন্ধু এতোবড় মাপের বিশ্বনেতা ছিলেন যে তার লন্ডন, দিল্লি হয়ে ঢাকা আসতে পাসপোর্ট তো দূরের কথা- ট্রাভেলস ডকুমেন্টেরও প্রয়োজন ছিল না। নাবালক তারেকের এ ইতিহাস জানার কথা নয়।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজিত রায় নন্দী ও কামাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বুধবার লন্ডনে তারেক রহমান বিএনপির এক আলোচনা সভায় বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তারপর অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। এজন্য শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা হওয়া উচিত।’ সূত্র: বাসস