জঙ্গিবাদের জনক তারেক জিয়ার বাবা মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকারী জিয়াউর রহমান কারাগারে আটক ১১ হাজার দালালকে ছেড়ে দিয়েছিলেন এমন মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। শুক্রবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ’৭৫-এর ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে জিয়াউর রহমান পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন পদে পুনর্বাসন করেছেন ও দেশ-বিদেশে ’৭৫-এর ঘাতকদের চাকুরি দিয়েছেন।
কামরুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমানের আসল চেহারা জাতির সামনে উন্মোচন করা হয়।
আইএসআই-এর এজেন্ট হিসেবে জিয়া পাকিস্তানীদের খুশি করতে বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চারনেতার খুনীদের পুরষ্কৃত করেছিলেন এবং এ হত্যাকাণ্ডের যাতে বিচার হতে না পারে তার জন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
ক্ষমতায় থাকার জন্য জিয়াউর রহমান হাজার মুক্তিযোদ্ধা হত্যা করেছিলেন-- উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এজন্যে অবশ্যই তার বিচার হওয়া উচিত।
তিনি আরো বলেন, আইএসআইয়ের এজেন্ট হিসেবে জিয়া মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন বলেই খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল তাহেরসহ হাজার মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিলেন। ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পরবর্তী সময়ে জিয়া ও তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
জিয়াউর রহমান গোলাম আযমকে দেশে এনেছিলেন এবং শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন এমন মন্তব্য করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তারই ধারাবাহিকতায় বিদেশে বসে তাদের পুত্র তারেক জিয়াও আজ একই ভাষায় বক্তব্য দিয়ে জনমনে বিক্ষোভের সৃষ্টি করছেন।
ক্ষমতায় থাকাকালে হাওয়া ভবনে বসে তারেক জিয়া জঙ্গিবাদের জন্ম দিয়েছিলেন-- আজ ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও জঙ্গিবাদের আস্তানার সন্ধান মিলেছে বলেও জানান কামরুল ইসলাম।।
তারেক জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সাহস থাকলে দেশে আসুন ও রাজনীতি করুন। জঙ্গিবাদের জনক তারেক জিয়া ও তাদের দোসর জামায়াত-শিবিরের মতো অশুভ শক্তির রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী ও ’৭৫-এর ঘাতক দালালদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে হবে। সমাবেশ শেষে মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস পালন উপলক্ষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সূত্র: বাসস