আজ ৭ নভেম্বর। পাল্টাপাল্টি ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও ভিন্ন আয়োজনে পালন করছে বিএনপি, জাসদ ও আওয়ামী লীগ। দেশকে মধ্যযুগে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ ছিলো ৭ নভেম্বরের ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধের বিপ্লব ও ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনাকে নস্যাৎ করে পাকিস্তানি ও সামন্তবাদী ভাবাদর্শ পুন:প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। ১৫ আগস্ট, ৩ ও ৭ নভেম্বরের মধ্যবর্তী সময়ে সেনা ছাউনি, ক্ষমতা ও রাজনীতিতে চলমান টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে কর্ণেল তাহেরের ভুলের সুযোগে অগণতান্ত্রিক চর্চায় ক্ষমতা দখল করেছিলেন জিয়াউর রহমান। আর এসব কারনেই বর্তমান প্রেক্ষাপটেও ৭ নভেম্বর তার প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি। এ ঘটনা বিশ্লেষণে এমন মন্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেসবাহ কামালের। আরেকজন হায়দার আকবর খান রনো, যিনি জনতার অভ্যুত্থান সংঘটনে সক্রিয় ছিলেন।
একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের সাড়ে তিন বছরের মাথায় সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে নেমে আসে অন্ধকার। ৭৫ এর ১৫ আগস্ট নিহত হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর আড়াইমাসের মধ্যে হত্যা করা হয় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী চার জাতীয় নেতাকে। নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় দেশের মানুষ দেখলো সেনা ছাউনি ও ক্ষমতাকেন্দ্রের টালমাটাল অবস্থা। ৩ নভেম্বর থেকে বিদ্রোহ, অভ্যুত্থান ও ক্যু-পাল্টা ক্যু চলতে থাকে।
এরই মধ্যে ৭ নভেম্বর কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সদস্যরা গৃহবন্দি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে। মুক্ত হয়েই তিনি রাষ্ট্রক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তারা। জেনারেল জিয়ার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসার দিনটিকে বিএনপি "জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস" হিসেবে পালন করে আসছে। জাসদ পালন করছে "সিপাহী জনতার অভ্যুত্থান দিবস" হিসেবে। আর আওয়ামী লীগ দিনটি পালন করে "মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস" হিসেবে।
ওই ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মেসবাহ কামালের বিশ্লেষণে, তখন ষড়যন্ত্র হয়েছিলো মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলে পাকিস্তানি ও ধর্মান্ধতার মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করার।
ওই সময়ের ঘটনাবলীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাজনীতিক হায়দার আকবর খান রনো।
তার মতে, সেদিন কর্নেল তাহেরের ভুলের সুযোগ নিয়ে সিপাহী-জনতার সম্মিলিত শক্তিকে হত্যা করেছিলেন জেনারেল জিয়া।
তবে, তারা দু'জনই মনে করেন ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত আছে. উন্নত বাংলাদেশ গড়তে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র বিরোধীদের সমূলে উৎপাটন এবং নিজেদের অধিকার আদায়ে জনগণের জেগে ওঠার কোনো বিকল্প নেই।