দেশকে ধ্বংসের জন্য জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে আছে এ সরকার—একথা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকার শুধু অবৈধ সরকার নয় ব্যর্থ সরকার তাই এ সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।
দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। দেশের মানুষ তাদের (শেখ হাসিনা সরকার) চায় না। ক্ষমতা আঁকড়ে বসে আছে, তারা জানে ক্ষমতা না থাকলে জনগণ তাদের ধাওয়া করবে। দেশবাসীর মনে আছে, এরশাদের কথা। সে সময় দেশের মানুষ তাদের কিভাবে খুঁজে ছিল, এ সরকারের লোকজনেরও তাই হবে।
মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের শাসনামলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি কোনো অন্যায় করেনি, আমি কেন দেশের বাইরে যাব। আমার ঠিকানা আমার দেশ। একজন (শেখ হাসিনা) কিন্তু ঠিকই চলে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী হওয়া বড় কথা নয় এদেশ আমার কাছে বড় কথা।
সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, 'এ সরকার শুধু অবৈধ নয় একটি ব্যর্থ সরকার। কাজেই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। কারণ তারা ব্যর্থ, দুর্নীতিবাজ, খুনি। বিচার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে শিক্ষা ক্ষেত্রে, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসন সকল ক্ষেত্রেই এ সরকার পিছিয়ে আছে। এসব খাতে এখন ব্যাপক দুর্নীতি চলছে যা পত্রপত্রিকায় আসছে।’
দেশে এখন নির্বাচিত সরকার নেই। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে মানুষ ছিল না ছিল কুকুর—এ কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
র্যা ব সম্পর্কে র্যা ব মানুষ খুনের প্রতিষ্ঠান, গুমের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে দাবি করে আবারো তা বিলুপ্তির কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দেশের মানুষের নিরাপত্তার কাজ না করে র্যা ব সরকারের গুম খুনের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। খালেদা জিয়া বলেন, শান্তি মিশনে যেন তাদের না পাঠানো হয়। ক্ষমতায় গেলে তাদের বিলুপ্তি করা হবে।
খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান সরকার কোনো উন্নয়ন করেনি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। সে উন্নয়নের ‘লিস্ট’বলতে গেলে সময় শেষ হয়ে যাবে, অন্য কোনো কথা বলা যাবে না।
শিক্ষাখাত সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা একেবাবে ভেঙে পড়েছে। বিদেশিদের দেখানোর জন্য পাসের হার বাড়ানো হচ্ছে। কয়েকদিন আগে পত্রিকায় এসেছে শিক্ষকরাই এখন নকল এগিয়ে দিচ্ছে। এই হচ্ছে শিক্ষার অবস্থা। এ সরকার শিক্ষার মান না বাড়িয়ে পাসের হার বাড়িয়ে চলেছে।
সমাবেশে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা দেখান, মন্ত্রীদের দুদক ছেড়ে দিয়েছে। তাদের নাকি কোনো দায় নেই–এ কথা উল্লেখ করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে দুর্নীতির আখড়া বলে অভিহিত করেন খালেদা জিয়া।
মন্ত্রীরা দুর্নীতি করে দায়মুক্ত হচ্ছে এটা দুদক তাদের করে দিচ্ছে। প্রতিটি সেক্টরে দুর্নীতিতে লিপ্ত তারা। এ দুদক বলছে তারা দায়মুক্ত। এ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে
আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ এতো বেশি ক্ষমতাধর যে তারা প্রশাসনকে ভয় পায় না তাই সারাদেশে গুণ্ডামী, সন্ত্রাসী করে যাচ্ছে।
এ আওয়ামী লীগ সরকার খুনি অত্যাচারী, অবৈধ সরকার। এ সরকারের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না।
দেশের অবস্থা ভালো নেই তাই বিদেশিরা বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বলেন, এ খাতে প্রতিটি জায়গায় দুর্নীতি হচ্ছে না, জেলা পর্যায়ে কোনো ডা. পাওয়া যায় না। দুর্নীতি করে বদলির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। টিআইবির প্রতিবেদনে সেটা উঠে এসেছে। কোথায় নেই এ সরকারের দুর্নীতি।
কিশোরগঞ্জের গুরুদুয়াল সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ২০ দলের জনসভায় বক্তব্য রাখছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
বুধবার তার জনসভাকে কেন্দ্র করে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর আজ কিশোরগঞ্জ যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
এদিকে, খালেদা জিয়ার জনসভাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শহর জুড়ে টানানো হয়েছে নানা রঙের পোস্টার। বিভিন্ন সড়কে তৈরি করা হয়েছে তোরণ।
জনসভাকে কেন্দ্র করে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এরমধ্যেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দিয়েছেন ২০ দলের নেতা-কর্মীরা।
সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়ি বহরে বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ও সদস্য সচিব হাবীব-উন-নবী খান সোহেল, দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান ও মহিলা দল নেত্রী শিরিন সুলতানা রয়েছেন।
জনসভা শেষে খালেদা জিয়া রাতেই ঢাকায় ফিরবেন বলে দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে।
গত ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর ঢাকার বাইরে এটি খালেদা জিয়ার ষষ্ঠ জনসভা। সর্বশেষ গত ১ নভেম্বর নাটোরে ২০ দলীয় জোটের এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি।