জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে ‘বেঈমান’ আখ্যায়িত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কথা বলার কোনো অধিকার তার নেই।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
এদিকে, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, বিএনপিকে দমনে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও বিচার বিহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালানো হচ্ছে।
বুধবার চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে এক জনসভায় এরশাদ বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ করলেও তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন না।’
এরশাদ আরো বলেন, জিয়া রাজাকারদের মন্ত্রীও বানিয়েছিলেন।
এরশাদের এই বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, 'এরশাদ গণতন্ত্র ধ্বংস করে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানে ছিলেন। তিনি দেশে ফিরে জিয়াউর রহমানের বদান্যতায় ডেপুটি জেনারেল হন। এরপর তিনি জেনারেল হন। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর সময় তার ভূমিকা ছিল সন্দেহজনক। এরশাদ বেঈমানী করে নির্বাচিত আব্দুস সাত্তারের সরকারকে বন্দুকের নলের মুখে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতা দখল করেন। জিয়াউর রহমান সম্পর্কে কথা বলার অধিকার এরশাদের নেই।'
৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, 'শেখ মুজিব নিহত হওয়ার পর সেনাবাহিনীতে যে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান হচ্ছিল, সেখানে একটি পক্ষ দেশকে আধিপত্যবাদীদের হাতে তুলে দেয়ার চক্রান্তে জড়িত ছিল। জিয়া সেই চক্রান্ত বাস্তবায়ন করতে দেননি। ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা তাকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করে দেশকে আধিপত্যবাদীদের ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত করেছিল। কিন্তু সেই সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের হাত থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সেই ইতিহাস আওয়ামী লীগ দেশবাসীকে জানতে দিতে চায় না। এ জন্যই ৮ নভেম্বর বিএনপির সমাবেশ তারা করতে দেয়নি।'
এ সময় আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের চেতনাবিরোধী দল বলে আখ্যায়িত করেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, প্রশাসনে নিজেদের চিহ্নিত লোক নিয়োগসহ অন্যায় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সংবিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
আন্দোলনে সফলতা পেতে পাড়ায়-মহল্লায় ছড়িয়ে পড়ে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের বিষয়ে জনমত গড়ে তুলতে নেতা-কর্মীদের পরামর্শ দেন তিনি।
৭ নভেম্বর 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' উপলক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিবুন নবী খান সোহেল।