বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আগামী মাসে ৩ নভেম্বরের জেলহত্যা মামলার প্রসিকিউশনকে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় ৪ নেতা পরিষদের উদ্যোগে জেলহত্যা ও মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস স্মরণে আয়োজিত ‘স্বরণীয় যারা-বরণীয় তারা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সুরঞ্জিত বলেন, জেলহত্যা মামলার বিচারের নামে প্রহসন হয়েছে। মামলাটি পরিচালনার ক্ষেত্রে উদাসীনতার জন্য এমনটি হয়েছে এবং আইন মন্ত্রণালয়কে এর দায় গ্রহণ করতে হবে।
জেলখানা পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা, সেখানে জাতীয় চারনেতাকে হত্যা করা হয়েছে—উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, সে হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার আজও হয়নি।
তিনি আরো বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত বিচার না হলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত হবে এবং গণতন্ত্র ব্যাহত হবে। কেননা দেশের সাংবিধানিক ধারা এবং মানবতার জন্য জেলহত্যার বিচার মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
এ সময় সুরঞ্জিত বলেন, দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধেও ইতিহাস বিকৃতিকারী বিএনপি-জামায়াতকে ভালোভাবে চেনে এবং জানে। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ইতিহাস মসৃণ করার দায়িত্বে নিয়োজিতরা ব্যর্থ হলে গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধ এবং মানবতার জন্য বড় ক্ষতি হবে।
গণতন্ত্র এবং ৭ নভেম্বর একে অপরের পরিপন্থী। ৭ নভেম্বর পালন করার সঙ্গে গণতন্ত্রের কোন সম্পর্ক নেই বলেও জানান তিনি।
সেদিন সেনাবাহিনীর সিপাহীদের উস্কে দিয়ে সেনা অফিসারদের হত্যা করা হয়েছিল— উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ইতিহাস বড়ই নিষ্ঠুর। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা কওে না। ইতিহাস তার আপন গতিতে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করে।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারের কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এ মামলার সাক্ষীর সংখ্যা ৪০০। তার মধ্যে ১০০ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার শিকার আমি নিজেও। গ্রেনেডের ২৬টি স্পিøন্টার নিয়ে এখনও বেঁচে আছি। তারপরও এ মামলার সাক্ষী হতে পারলাম না।
সুরঞ্জিত বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রসিকিউশনকে ডেকেছিলাম। তারা ২০১৫ সালের মধ্যে এ মামলার বিচার কাজ শেষ করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সূত্র: বাসস