দায়িত্বপূর্ণ পদে থেকে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মতো প্রতিষ্ঠান নিয়ে বক্তব্য দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের সতর্ক হয়ে বক্তব্য দেয়ার আহ্বান—আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। শুক্রবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, একজন উপদেষ্টা পাবলিক সার্ভিস কমিশন সম্পর্কে কথা বলেছেন। তবে পাবলিক সার্ভিস কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এতে সবারই পরীক্ষা দেয়ার সমান সুযোগ আছে, এ নিয়ে একটু সতর্ক হয়ে কথা বলতে হবে।
৫ জানুয়ারি নির্বাচনে কোনো বিশেষ বাহিনীর সহায়তায় বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসেনি বরং জনগণের সমর্থনে জয়ী হয়ে এসেছে বলে জানান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিজয়ে কোনো বাহিনীর ক্রেডিট নয়, এটা মানুষের ক্রেডিট। জনসমর্থনের ওপর ভিত্তি করে সরকার ক্ষমতায়। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করি বলে আমাদের এ অবস্থা। পুলিশ বাহিনী দিয়ে একে বিভাজন করা যাবে না। পুলিশ রাষ্ট্রের, সবার।
দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থেকে খালেদা জিয়া এখন হতাশার চরম পর্যায়ে পৌঁছেছেন— উল্লেখ করে সুরঞ্জিত বলেন, তার উচিৎ আন্দোলনে না নেমে মানসিক চিকিৎসা করানো।
এদিকে, এইচটি ইমামের এ ধরনের বক্তব্য সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন– উল্লেখ করে টিআইবির মহাপরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এইচটি ইমামের এ ধরনের বক্তব্য সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পরিপন্থি।
অবিলম্বে এইচটি ইমামকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার এবং এ বিষয়ে সরকারকে তার অবস্থান পরিস্কার করার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ছাত্রলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় দলটির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এইচটি ইমাম বলেন, তোমরা লিখিতটা ভালো করো, ভাইভাটা আমরা দেখব।
৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে এইচটি ইমাম বলেন, নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ পুলিশ ও প্রশাসনের যে ভূমিকা, নির্বাচনের সময় আমি তো প্রত্যেকটি উপজেলায় কথা বলেছি, সব জায়গায় আমাদের যারা রিক্রুটেড, তাদের সঙ্গে কথা বলে, তাদেরকে দিয়ে মোবাইল কোর্ট করিয়ে আমরা নির্বাচন করেছি। তারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, বুক পেতে দিয়েছে।