আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল নয়–গণতন্ত্রের পক্ষের দল নয়। তাই তাদের দিয়ে দেশের ভাল, কল্যাণ ও উন্নতি হতে পারে না— এ কথা জানিয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, দেশে এখন এক নায়কতন্ত্র শাসন ব্যবস্থা চলছে।
দেশের অর্থনীতির অবস্থার অত্যন্ত খারাপ এ কথা উল্লেখ করে দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকা দেখিয়ে তিনি বলেন, দেশের রাষ্ট্রিয় ব্যাংকগুলো ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে এ সরকার।
রামসাম যদুমধুকে দেশের ব্যাংকগুলোতে বসিয়ে অচল করে দিয়েছে তাই এ অচল সরকার ক্ষমতায় থাকার কোনো আধিকার নেই বলে জানান তিনি।
নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগাম নির্বাচনের দাবিতে গণসংযোগের অংশ হিসেবে শনিবার বিকেলে কুমিল্লার টাউন হল মাঠে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের জনসভায় বক্তব্য রাখেন খালেদা জিয়া।
সময় হলেই আন্দোলনের ডাক দিব এ কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারকে বর্জন ও শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রে ধারায় দেশ গড়ার কথা বলেন খালেদা জিয়া।
আওয়ামী লীগ সরকারের এক নীতি সেটা হলো দুর্নীতি। আওয়ামী লীগের লোক হোক, মন্ত্রী হোক আর এমপি হোক সবাই লুটপাটে ব্যস্ত রয়েছে।
দুদক সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেন, এক ব্যক্তির শাসন চলছে, প্রথমে দুদক তাদের এমপি -মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব নেয়। কিন্তু এক ব্যক্তির শাসন, সে ওখান থেকে বলে দেয়ায় তাদের আর ধরা হলো না, তখন তাদের ছেড়ে দেয়া হলো। তাই দুদক হচ্ছে দায়মুক্তি কমিশন। দুদক দুর্নীতি দমন কমিশন নয় দায়মুক্ত কমিশন।
বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে বলেন, কোনো বিচারপতির রায় পছন্দ না হলে পার্লামেন্ট থেকে বিদায় করে দেবে। যেহেতু এ সরকার অবৈধ তাই কোনো আইন পাস হলে সেটা মেনে নেয়া হবে না। আওয়ামী লীগ সরকার বিচারপতিদের হাত বেধে দিয়েছে।
‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনে কেউ ভোট দেয়নি মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, এ নির্বাচনে কেউ ভোট দেয়নি। তা এই পার্লামেন্টের কোনো বৈধতা নেই। আর অবৈধ এ পার্লামেন্টে কোনো আইন পাস অধিকারও নেই। এই সংসদে পাস করা আইনের কোনো বৈধতা নেই।’
নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করার জন্য নিরপেক্ষ নিরদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে প্রমাণ করুন যে আপনাদের কতটা জনপ্রিয়তা আছে।
এইচ টি ইমাম- যিনি শেখ হাসিনাদের ইমাম। সে সব জারিজুরি ফাঁস করে দিয়েছে। কিভাবে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হয়েছে। এই ইমামের পেছনে নামাজ পড়া আর ঠিক হবে না।
হাসিনা সরকার এখন খুনিদের দ্বারা বেস্টিত। তাই তারা জানে ক্ষমতা না থাকলে দেশের জনগণ তাদের পিষে মেরে ফেলবে এ মন্তব্য করে বিএনপিরে এ নেতা বলেন, আমরা ক্ষমতা চাই না। চাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। জনগণ যাকে বেছে নেবে তাকেই মেনে নেয়া হবে।
মিগ-২০ কেনা মামলায় শেখ হাসিনার সাজা হতো, তাই মঈনউদ্দিন ফখরুদ্দিনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছিল। মামলা থেকে রেহায় পাওয়ার জন্য। পায়ে ধরেছিল সে। কিন্তু আমি তাদের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যায়নি বলে জানান খালেদা জিয়া।
আওয়ামী লীগের নেতাদের নামে হাজার হাজার মামলা তুলে নেয়া হয়েছে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের নামে হাজারো মামলা দেয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনার নামে ১৫টি মামলা ছিল। সেগুলো তুলে নেয়া হলো কেন? আওয়ামী লীগ বার বার বলে তাদের জনপ্রিয়তা আছে। যদি জনপ্রিয়তা থাকে তাহলে প্রমাণ করুন। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করুন।
আমাদের সময় র্যা ব ভালো কাজ করেছে আর এখন র্যা ব খুনে দলে পরিণত হয়েছে, সরকারের হয়ে খারাপ কাজ করছে। দেশ বিদেশ সব মানবাধিকার কমিশন র্যা ব বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে। দেশে যত মানুষ খুন করেছে তার হিসেব আছে—এ কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন যে বাহিনী খুনের সঙ্গে জড়িত তাদের বাতিল করতে হবে।
পুলিশ সম্পর্কে বলেন, প্রতি মাসে ১০০ পুলিশও অপরাধে সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তারা কি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অংশ নয়। আপনারা জনগণের সেবক জনগণের ওপর জুলুম করবেন না। নিয়ম মেনে আইন মেনে কাজ করার কথা বলেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে সফর সঙ্গীদের নিয়ে কুমিল্লায় যান বিএনপির এ নেত্রী।
এদিকে, কুমিল্লা জেলা বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়।
মহাসড়কের দু'পাশে ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হয়। বিপুলসংখ্যক তোরণ নির্মাণ করা হয়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবির সঙ্গে স্থানীয় নেতাদের ছবি সংবলিত পোস্টার-ব্যানারে শহর ও আশপাশ এলাকা ছেয়ে ফেলা হয়।