গত ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালনের কর্মসূচির নামে বিএনপিকে কোনোভাবেই নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র রক্ষা দিবস পালনের লক্ষ্যে দিনভর আনন্দ উল্লাস করে মাঠে থাকবে। বিএনপি-জামাত চক্র যেন আর নৈরাজ্য সৃষ্টির কোনো সুযোগ না পায় এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ তারা এখনও চক্রান্ত্র ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
শনিবার সকালে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন।
আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টির পায়তারা করা হলে তা প্রশাসন কঠোরভাবে দমন করবে উল্লেখ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হলে জনগণই তার সমুচিত জবাব দেবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বুকে মর্যাদাশীল জাতি ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। উন্নয়ন ও জনস্বার্থ বিরোধী কোন আন্দোলনের নামে কেউ হুমকি দিয়ে ফায়দা লুটতে পারবেনা।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিএনপি-জামাতের জ্বালাও পোড়াও, হত্যা ও নৈরাজ্য মোকাবিলা করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করেছেন বলেই দেশের গণতন্ত্র রক্ষা হয়েছে।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সংসদ চলছে, দেশের উন্নযন হচ্ছে। ভারত, চীন, জাপান সহবিশ্বের উন্নত দেশ সমূহ বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। এ নির্বাচন না হলে দেশে সামরিক শাসন হতো, গণতন্ত্র ও সংসদের মর্যাদা ভুলুন্ঠিত হতো। খালেদা জিয়ার দল তাই চেয়েছিল। এজন্যই তারা ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যাদিবস পালন করবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, খালেদা জিয়া ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে রাজনৈতিকভাবে ভুল করেছেন। দলের ক্ষতি করেছেন। এই্ ভুলের মাশুল বিএনপিকেই দিতে হবে।
কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালের নির্বাচনে জনগণই নির্ধারণ করবে, কারা দেশ পরিচালনা করবে। এর কোন বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের আমলে দেশবাসী শান্তি ও স্বস্তিতে থাকার কারনেই বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের পালে বাতাস লাগবেনা।
তিনি বিএনপিকে হিংসা, বিদ্বেষ, সন্ত্রাসের পথ পরিহার করে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত বর্তমান সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
তিনি বিকেলে তাঁর নির্বাচনী এলাকা কাজীপুরে পল্লী বিদ্যুতের সাব-জোনাল অফিসের উদ্বোধন, চালিতাডাঙ্গায় প্রায় আড়াই’শ গ্রাহকের বাড়িতে বিদ্যুত সংযোগের উদ্বোধন এবং মুক্তিযোদ্ধা কমপে¬ক্স ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এ সময়ে জেলা প্রশাসক মোঃ বিল্লাল হোসেন, পুলিশ সুপার এসএম এমরান হোসেন,পল্লী বিদ্যুতের জিএম তুষার কান্তি দেবনাথ, কাজীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন, সাধারন সম্পাদক খলিলুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক সরকার বকুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক মৎস্যমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না এমপি, হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি, আব্দুর মজিদ মণ্ডল এমপি, সেলিনা বেগম স্বপ্না এমপি । সূত্র বাসস।