পরিকল্পিতভাবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে—এ কথা জানিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ভিন্ন মত পোষণ করলে নির্যাতন করা হচ্ছে। বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
'খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা পরিকল্পিত দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমরা গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করছি। আন্দোলন নস্যাৎ করতে সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলা হয়েছে। এতে ৬ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।' এ ঘটনার প্রতিবাদে কাল- বৃহস্পতিবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে তারা।
জনগণের আন্দোলনকে দমন করার জন্য এ অবৈধ সরকার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, যে কোনো ধরনের ন্যাকারজনক ঘটনায় জন্য এ সরকারই দায়ী থাকবে।
তিনি হুঁশিয়ারি ঊচ্চারণ করে বলেন, 'সরকারকে এ ধরণের দমননীতি বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় যে কোনো পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায় বহন করতে হবে।'
গতকাল এ অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী কারা দিবস উপলক্ষে গাজীপুর যাওয়ার পর সেখানকার পরিস্থিতি বদলে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, 'দেশের আজকের এ সমস্যা ২০ দলের সমস্যা নয়, গোটা জাতির সমস্যা। দীর্ঘদিন আমরা অভিযোগ করে এসেছি আমাদের সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হয় না। আমরা ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরে জনসভার অনুমতি চেয়েছি। তারপর হঠাৎ করে অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরের কাশিমপুর গেলেন। তিনি সেখান থেকে ফিরে আসার পর তাণ্ডব শুরু হয়েছে।'
বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না –এ অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, অনৈতিক ও অবৈধ সরকার তাদের বেআইনী ক্ষমতা ধরে রাখতে বিরোধীদের ওপর হামলা শুরু করেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সরকার জনগণের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। আদালতে যাওয়ার পথে খালেদা জিযার গাড়ি বহরে হামলার মধ্যদিয়ে সরকার সহিংসতা শুরু করেছে।
দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা দেয়াকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে বকশীবাজার এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে বিএনপি নেতাকর্মীরা ইট-পাটকেল ছুড়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
এ ঘটনার পর বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিন ধরে সরকারের মন্ত্রীরা বিএনপির আন্দোলন দমনে হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। ২০ দলের গাজীপুরের জনসভাস্থলে গতকাল ছাত্রলীগ আক্রমণ চালায়। সেখানে তারা ব্যাপক গুলি চালায়। প্রায় ৫ ট্রাক পুলিশ নিয়ে তারা সেখানে হামলা করে। দুপুরে গাজীপুরে ছাত্রদলের ছেলেদের মিছিলে যুবলীগের ছেলেরা হামলা চালায়। গাজীপুরের এসপি নিজে প্রেসক্লাবে গিয়ে বলেছেন- খালেদা জিয়ার জনসভা করতে দেয়া হবে না।