বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জনসভার দিন গাজীপুরে ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত ‘পূর্বপরিকল্পিত’ বলে অভিযোগ করেছে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গাজীপুর জেলা প্রশাসন শুক্রবার দুপুর থেকে জেলায় সব ধরনের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, শনিবার বেলা ২টায় গাজীপুরে ২০ দলীয় জোটের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ভাষণ দেয়ার কথা ছিল। এ জনসভা বানচাল করতেই সরকার পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
ফখরুল দাবি করেন, তারা জনসভার জন্য আগেই অনুমতি নিয়েছিলেন। সব নিয়ম মেনেই তা করা হয়েছিল।
কিন্তু সরকারবিরোধী দলকে জনসভা করতে দেবে না—সেজন্য গত কয়েকদিন ধরে গাজীপুরে স্থানীয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগ যা কিছু করছে, তা সাজানো নাটকের বিভিন্ন পর্ব ছিল। সরকার শুধু ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ মাঠে নয়, গোটা গাজীপুরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
খালেদা জিয়ার বিভিন্ন জেলা সফরের অংশ হিসেবে বেশ কিছু দিন আগেই গাজীপুরের বদরে আলম কলেজ মাঠে জনসভার কথা জানিয়েছিল বিএনপি।
এর আগে সকালে গাজীপুরে ২০ দলের জনসভা হবেই— এ নিয়ে নৈরাজ্য বন্ধ করে সহযোগিতা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি চেয়ারপাসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ওই সময় তিনি বলেন, গাজীপুরের জনসমাবেশ হবেই, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। জনসভার অনুমতির জন্য প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মুক্তি দাবি করে ফখরুল বলেন, মামলা হামলা করে আন্দোলন দমানো যাবে না।
প্রসঙ্গত, শনিবার গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে জেলা বিএনপি এ সমাবেশের ডাক দেয়। ২০ দলীয় জোটের সব নেতাকর্মীর ওই সমাবেশে অংশ নেয়ার কথা।
একইস্থানে পাল্টা জনসভার ডাক দিয়ে ছাত্রলীগ বলেছে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তারেক রহমানের আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে, অন্যথায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করতে হবে। বাংলাদেশের কোথাও খালেদা জিয়াকে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে জানায় আওয়ামী লীগ।
এদিকে, একই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ অনড় থাকায় যে কোনো সময়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।