সংঘাত ও সহিংসতা উস্কে দিয়ে বিএনপি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগের অবস্থার মতো দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। শুক্রবার রাজধানীর আলাদা আলাদা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন নেতারা।
তাদের দাবি, অতীতের মতো বিএনপি এবারও সফল হবে না—এ কথা জানিছে নেতা বলেন, সহিংসতা হলে সমুচিত জবাব দেয়া হবে।
চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অভিযোগ করেন, বিএনপি আবারও দেশের রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে।
এছাড়া আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারি ঘোষিত কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না বলেও জানান তিনি।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অপর এক আলোচনায় দলের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহদুদ বলেন, বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সহিংসতা করতে চাইলে তা মোকাবেলা করতে প্রস্তুত আওয়ামী লীগ।
খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি-জামাত চক্র ২০১৩ সালের মতো দেশে আবারও নৈরাজ্য সৃষ্টি করার একটি পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দেশে শান্তি ফিরে এসেছে। মানুষের মধ্যে এখন আর আতঙ্ক নেই। দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন কাউকে আর নৈরাজ্য সৃষ্টির সুযোগ দেয়া হবে না।
কামরুল ইসলাম আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বীরউত্তম খাজা নিজামুদ্দিন মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ’ আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।
কামরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি একদিকে বিদেশী বন্ধুদের দিয়ে সরকারকে চাপ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি। তারা যতই চেষ্টা করুক, কোন লাভ হবে না। সন্ত্রাস করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে খালেদা জিয়া আদালতে যাবেন না বলেই বুধবার একটি অঘটন ঘটিয়েছেন। আগামী ৭ জানুয়ারি তিনি নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে আদালতে যাবে না। তাই এ ক্ষেত্রটি তৈরি করছেন খালেদা জিয়া নিজে। লাঠি নিয়ে আদালতে যাওয়া- এটা কোন ধরনের সংস্কৃতি। এ ধরনের আচরণ করে খালেদা জিয়া আদালতকে অপমান করেছেন।
২০১৩ সালের মতো বাংলাদেশে আর কাউকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার সুযোগ দেয়া হবে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি ২০১৩ সালের মতো অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। বিএনপি এদেশের রাজনৈতিক শিষ্টাচার নষ্ট করেছে। তাই খালেদা ও তারেককে রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করতে হবে। তবেই এ দেশের রাজনীতিতে শিষ্টাচার ফিরে আসবে।
কামরুল
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি করে বক্তব্য দেওয়ায় তারেক রহমানের বিচার ও শাস্তির দাবীতে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভাপতি হাসিবুর রহমান মানিকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা প্রমুখ।