রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টির জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছিলেন তিনি। মুঠোফোনের কথোপকথোনের সুত্র ধরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি গোয়েন্দা পুলিশের।
মুঠোফোনে গত ২৫ ডিসেম্বর সকালে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ঢাকা মহানগর উত্তরের এক বিএনপি কর্মী মহিউদ্দিনকে ধারালো ৩ মাথা বিশিষ্ট তারকাটা তৈরির নির্দেশ দেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এ তারকাটা ব্যবহার করে চলন্ত গাড়ির চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে নাশকতা চালিয়ে দেশে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরীর পরিকল্পনা ছিল বিএনপির। আর একাজে ওই কর্মীকে অর্থ দেন তুরাগ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান।
আটকের পর তা অকপটে গণমাধ্যমে কাছে স্বীকার করেন ওই বিএনপি কর্মী মহিউদ্দিন। তবে, তদন্তের স্বার্থে ক্যামেরার সামনে তার বক্তব্য ধারণ করতে দেয়নি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
গয়েশ্বরের নিদের্শনা পেয়ে কর্মী মহিউদ্দিন উত্তরার তুরাগ থানাধীন কামারপাড়া এলাকায় ফেনী মেটাল ওয়ার্কশপ নামের একটি কারখানায় এই তারকাটা বানাতে দেয়।
মহিউদ্দিন আরো বলেন, গত ৩ মাস আগে যশোরের এক বিএনপি নেতার দেয়া নমুনানুযায়ী এগুলো বানান তারা।
গয়েশ্বর ও মহিউদ্দিনের মুঠোফোনের কথোপকথোনের সূত্র ধরে, ওই কারখানা থেকে ৫৪ পিছ তারাকাটা উদ্ধার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
আটক করা হয় কারখানার মালিক মিজানুর রহমান, বিএনপির কর্মী মহিউদ্দিন ও তুরাগ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমানকে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর আয়েশা কমপ্লেক্স থেকে শুক্রবার সকালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে আটক করা হয়।
পরে গত ২৪ ডিসেম্বর বকশীবাজারে সংঘর্ষ এবং সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাসের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় শাহবাগ থানার মামলায় ৪ জনকেই রিমান্ডে নেয় শাহবাগ থানা পুলিশ।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ দক্ষিণের উপ-কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, তারকাটা নিয়ে নাশকতা তৈরির বিষয়টির তদন্ত চলছে, পরে এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।