রাজনীতি

আমাকে কেন বন্দি রাখা হয়েছে? জানতে চাই

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে

খালেদা জিয়া
খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয়ে গাড়ি থেকে নেমে সাংবাদিকদের বলেন, আমাকে কেন বন্দি রাখা হয়েছে সেই বিষয়টি আমি জানতে চাই? দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই—সভা সমাবেশের ওপর তারা বিধি নিষেধ আরোপ রেখেছে সরকার।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন খালেদা জিয়া। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আজ আমাদের কালো পতাকা কর্মসূচি ছিল। সমাবেশ করতে দেয়া হয় নাই। এ জন্য পরবর্তী কর্মসূচি না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলবে। এরপর সমাবেশের কর্মসূচি দেয়া হবে।

গত পরশু দিন অফিসে আসার পর জানতে পারি দলের নেতা রিজভী আহমেদ অসুস্থ, তাকে দেখতে যাওয়ার জন্য বের হতেই দেখি পুলিশ অবরুদ্ধ করে রেখেছে –কেন তা আমি জানি না, আমাদের জানানো হয়নি? বলে অভিযোগ করেন তিনি’

‘সরকার টেলিভিশনে বলছে, আমাকে বন্দি করে রাখা হয়নি – তাহলে যদি বন্দি না করে কেন এতো পুলিশ, গেটে তালা, এখন আমি বের হতে চাচ্ছি কেন আমাকে বাধা দেয়া হচ্ছে। আমি সরকারের কাছে জানতে চাই কি কারণে আমাকে এখানে বন্দি করে রাখা হয়েছে?’

দেশে আজকে গণতন্ত্র নির্বাসিত এবং জনগণের মৌলিক, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের নেই। দেশে সুশাসন বলে কিছু নেই। দেশে একটা অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে বলে মনে করেন খালেদা জিয়া।’

সরকারকে আবারো স্বৈরাচার বলে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, গোটা দেশই এখন কারাগারে পরিণত হয়েছে। রক্ত দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না, এ রক্ত দিয়েই ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে।

পল্টন অফিসে যেতে চাই আমাকে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিন বলে জানান খালেদা জিয়া।

‘আমি নিজেই অবরুদ্ধ নই সারাদেশ আজ অবরুদ্ধ করে রেখেছে সরকার— খালেদা জিয়া বলেন, এটা কোন ধরনের নিরাপত্তা, আমি যেখানে যেতে চাইব সেখানে যেতে তারা সাহায্য করবে কিন্তু তা করা হচ্ছে না। কাজেই এভাবে দেশ চলতে পারে না।’

সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীরা স্বতস্ফূর্ত সভা- সমাবেশ করতে চেয়েছিল সেখানে আওয়ামী লীগের গুণ্ডাবাহিনী পুলিশের সহায়তায় বন্ধ করে দিয়েছে। সমাবেশে হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আবারো আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশে শান্তি ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য একটি নির্বাচন করতে হবে। এটা আমাদের কথা নয় সারাবিশ্বের দাবি সকলের অংশগ্রহণে একটা নির্বাচন হতে হবে।’

জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে অবিলম্বে আবারো নির্বাচন দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার নয় কাজেই এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়, নির্বাচন দিতে সরকার ভয় পায় কেন? একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে সেটাও আমরা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করে নিতে পারি। সরকার সে পথে নেই, দেশের অবস্থা দেখলে মনে হয় যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। এর জন্য যারা জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে তারা দায়ী। এ দায় কোনোভাবেই তারা এড়াতে পারে না। মানুষ চায় পরিবর্তন, একটা নির্বাচনের মাধ্যমে। তারা চায় শান্তি।’

চেয়ারপারসন বলেন, ‘জানতে পেরেছি একুশে টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, এ করে কোনো সমস্যার সমাধান করা যায় না, এর আগেও অনেক টিভি চ্যালেন বন্ধ করে দিয়েছে, কেন তারা টেলিকাস্ট করবে না, সরকার কথা বললে টেলিকাস্ট করা হবে আরর অন্যরা বললে বন্ধ করা হবে ,এটা গণতন্ত্রের ধারা হতে পারে না। অতীতে তাদের এই চেহারা ছিল স্বাধীনতার পরে এখন তারা ফ্যাসিস্ট হয়ে গেছে তারা। কাজেই এই ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে না। জনগণ যে তাদের সঙ্গে নেই সেটা তারা বুঝতে পেরেছে। জনগণ থেকে তারা বিচ্ছিন্ন, এদের পায়ের নিচে কোনো মাটি নেই। তারা নির্বাচন দিতে ভয় পায়, তাদের যে কি করুণ পরিণতি হবে সেটা তারা বুঝতে পেরে গেছে। গুলি চালিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, পৃথিবীর অনেক দেশে কখনো কোনো ডিক্টেটর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি, এড়াতো ডিক্টেটর হয়ে গেছে, কেউ কিন্তু টিকে থাকতে পারেনি। শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি ক্ষমতা ছড়ার পড়েও যে পরিণতি হয়েছে অনেক খারাপ ও করুণ, সেটাও যেন তারা ভুলে যায় না। দেশ এ অচলাবস্থা তা চলতে পারে না।’

পুলিশের মধ্যে সরকারের এজেন্ট ঢুকে পড়েছে—দেশটাকে তারা পুলিশি রাষ্ট্র বানাতে চায় সরকার, সব কাজ পুলিশ দিয়ে করাচ্ছে সরকার বলে অভিযোগ খালেদা জিয়া বলেন, ‘বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না, এ বাড়াবাড়ি বেশিদিন ঠিকবে না, তার জন্য পরিণতি ভোগ করতে হবে, এটা মনে রাখবেন।’

তবে তার কার্যালয়ের সব গুলো গেটে তালা দিয়ে রাখা হয়েছে। এর আগে গেটের সামনে গাড়িতে অবস্থান করেন তিনি। নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হন।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে একবার কার্যালয় থেকে বাইরে যাওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। কিন্তু পুলিশ বাইরের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

এরপর আবার বিকেল পৌঁনে ৪ টায় কার্যালয়ের বাইরে যেতে নিজের গাড়িতে ওঠেন খালেদা জিয়া।

কিন্তু গেট তালাবদ্ধ থাকায় বাইরে বের হতে না পেরে প্রায় ৪০ মিনিটের মতো গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করেন তিনি। তার সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীরা গেট ধাক্কাধাক্কি করে এবং ভেঙে ফেলার চেষ্টা চালায়। সরকারের বিরোধী স্লোগানও দেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পিপার স্প্রে ছোড়ে পুলিশ। এতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সহ কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করা সাংবাদিক সহ ৩০ থেকে ৩৫ জন আহত হন। পরে আবারো বিএনপি নেতা-কর্মীরা স্লোগান দেন এবং গেটে ধাক্কাধাক্কি করেন।

বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে গাড়ি থেকে নেমে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

এর আগে গেটের ভেতরে তার বিশেষ সহকারি শামসুর রহমান শিমূল বিশ্বাস এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা হয়েছে। আমাদের সংগ্রাম চলবে।

গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী মিথ্যাচার করেছেন— তিনি বলেছেন খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা হয়নি তার নিরাপত্তার স্বার্থে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। দেশবাসী আজ দেখতে পাচ্ছেন আসলে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। সরকার মিথ্যাচার করেছে।

গণতন্ত্রের নামে সরকার মিথ্যাচার করছেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।

নেতাকর্মীদের সরাতে এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পিপার স্প্রে করেছে। গেটের ভেতরে কালো পতাকা নিয়ে শ্লোগান দিয়ে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। তারা তালা ভাঙার চেষ্টা করেছেন।

শনিবার রাত থেকে গুলশানে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর রোববার রাত থেকে ১০-১২ টি ইট ও বালু ভর্তি ট্রাক দিয়ে কয়েক স্তরের ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয় কার্যালয়ের বাইরে। কয়েক'শ পুলিশ, র্যা ব ও গোয়েন্দা পুলিশ অবস্থান নেয় কার্যালয়ের বাইরে ও আশপাশের এলাকায়।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

রওশন এরশাদের সঙ্গে রাঙ্গা

বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে বিরোধী দলের নেতারা যা বলছেন

এবার আরেক উপদেষ্টাকে অব্যাহতি দিলেন জিএম কাদের

জোর-জবরদস্তির নির্বাচন হবে, এমন মেসেজ পাচ্ছি: জিএম কাদের

আমরণ অনশনের ঘোষণা ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের

আলোচিত মহিউদ্দিন মহারাজের মনোনয়ন প্রত্যাহার

প্রধানমন্ত্রী সকল যড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বীরদর্পে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে: মির্জা আজম

যা যা চাওয়া হয়েছে ভারত সব দিয়েছে: সেতুমন্ত্রী

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ