প্রেসক্লাব থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বর্তমানে তাকে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, আগামীকাল তাকে আদালতে নেয়া হবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ) মাসুদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। আদালতে নেয়ার পর বিষয়টি জানা যাবে।
বিএনপির এ নেতা প্রেসক্লাবের ফটকে আসার সময় আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকদের একটি মিছিল থেকে ‘ধর ধর ফখরুলরে ধর’ বলে স্লোগান দেয়া হয়। মিছিল থেকে ‘জয় বাংলা স্লোগান দেয়া হয়।
মির্জা ফখরুল বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা প্রস্তুত হতে শুরু করে। ফটকের সামনে পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যান রাখা ছিল গেটের বাইরে। এ সময় মির্জা ফখরুল তার ব্যক্তিগত একটি গাড়িতে ওঠেন। পরে সেখানে ডিবির এক সদস্য ওঠেন। এরপর গাড়িটি নিয়ে যাওয়া হয়। গাড়ির পেছনে পুলিশের প্রিজন ভ্যান ও বেশ কয়েকটি গাড়ি ছিল।
এ সময় প্রেসক্লাব চত্বরে বিএনপিপন্থি সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে চলে পুলিশের বাকবিতণ্ডা। তারা সরকার বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থান নিয়েছি—বলে জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গ্রেপ্তারের আগে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তাজনিত কারণে সারারাত জাতীয় প্রেসক্লাবে ছিলাম।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের ঐতিহ্যগত আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন। এ জন্য তিনি সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরো বলেন, দেশ কারাগারে পরিণত হয়েছে। অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যোগ দেয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ার পর্যন্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থান করবেন–জানান প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা।
এ সময় শওকত মাহমুদ বলেন, সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ তারা অন্য কথা বলছেন। তারা মির্জা ফখরুল সাহেবকে বের করে দিতে বলছেন। তার নিরাপত্তা না পেলে তাকে বের করা হবে না। অতীত ইতিহাসে এ ধরনের নজীর রয়েছে যে রাজনৈতিক নেতারা যে কোনো পরিস্থিতিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে আশ্রয় নিয়ে থাকেন এবং নিতে পারেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকেরা বরাবরই প্রেসক্লাবে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রেসক্লাবের দরজা তাদের জন্য খোলা ছিল। এটা নিয়ে কেউ কটাক্ষ করেননি।
শওকত মাহমুদ আরো বলেন, মির্জা ফখরুল প্রেসক্লাব থেকে বের হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সাংবাদিকেরা তাকে যেতে দেননি। কারণ বাইরে গেলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হতো।
গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে পেশাজীবী পরিষদের সমাবেশে যোগ দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই থেকে সেখানে অবস্থান করেন তিনি।
পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকেই জাতীয় প্রেসক্লাবে সমাবেশ করে বিএনপি সমর্থিত সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ।
বিকেলে যোগ দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের সমালোচনা করে বলেন, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
ওই সমাবেশে তার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে জাতীয় প্রেসক্লাবে মারামারির ঘটনা ঘটে সরকার ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে।
সমাবেশ শেষে মির্জা ফখরুল প্রেসক্লাব থেকে বের হতে চাইলে সেখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের বাকবিতন্ডায় আবারও প্রেসক্লাবের ভেতরে অবস্থান নেন মির্জা ফখরুল।
৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন উপলক্ষে প্রেসক্লাবে বিএনপি সমর্থিত সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজন করে এক অনুষ্ঠান। অপর দিকে সাংবাদিক নেতাদের অপর একটি অনুষ্ঠান চলছিল। পরে আওয়ামী লীগ–বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।