বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের নেতাকর্মীদের অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলের যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার বিকেলে গুলশানের এক বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যেই সরকার পুলিশকে দিয়ে পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করিয়েছে।
রিজভী বলেন, বিরোধী দলকে দমনে সরকার হিটলারের মতো আচরণ শুরু করেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে আটকের নিন্দা ও মুক্তি দাবি করেন।
ইজতেমার জন্য কর্মসূচি শিথিল করার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে কিনা তা পরে জানানো হবে বলেও জানান রিজভী।
অন্যদিকে, রুহুল কবির রিজভীর ভাই হাসপাতালের বিলের অর্থ পরিশোধ করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রিজভী আহমেদের চিকিৎসা ব্যয় ৫৬ হাজার টাকা বিল তার পুরোটাই পরিশোধ করা হয়েছে।
এর আগে সকালে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালের কর্তব্যরত কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, রুহুল কবির রিজভী হাসপাতাল থেকে বের হয়ে গেছেন।
এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে।
তিনি আরো বলেন, ভোর ৪টার পর থেকে রিজভীকে পাওয়া যাচ্ছে না— হাসপাতাল ছাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়নি।
তবে চিকিৎসাধীন রিজভী হাসপাতাল ছাড়ার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা পুলিশ কিছুই জানাননি।
পুলিশ পক্ষ থেকে বলা হয়, অসুস্থ থাকার কারণেই রিজভীকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গতকাল রাতেই হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় গেছেন রুহুল কবির রিজভী। পরে তার ভাই হাসপাতালের বিলের অর্থ পরিশোধ করেছেন।
উল্লেখ্য, ৫ জানুয়ারি গিয়ে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন উপলক্ষে কর্মসূচি ঠিক করতে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যলয় অবস্থান করছিলেন। শনিবার রাত ১২টার দিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অসুস্থ হয়ে পড়লে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে থেকে হাসপাতালে নেয়ার কথা বলে উঠিয়ে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। পরে তাকে রাজধানীর অ্যাপোলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এর কিছুক্ষণ পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তল্লাশী চালায় পুলিশ। কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থানরত সবাইকে বের করে দিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুঁলিয়ে দেয় পুলিশ।
খবর পেয়ে কিছুক্ষণ পর খালেদা জিয়া গুলশানের নিজ কার্যালয় থেকে রিজভী আহমেদকে দেখতে হাসপাতালে যেতে চাইলে রাস্তা বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এ সময় চেয়াপারসননের কার্যালয়ের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। যা এখনো বলবৎ রয়েছে।