পাঁচ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে সহিংসতা শুরু হয়। এরইমধ্যে রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পূর্বঘোষিত সমাবেশ যোগ দিতে গিয়ে পুলিশের বাধামুখে পড়েন তিনি।
পরে গুলশান কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন তিনি; ঘোষণা দেন অনির্দষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচির।
আওয়ামী লীগের দখলে থাকা রাজপথে অবরোধ তৈরি করে রাজনৈতিক উত্তেজনা। সংঘর্ষে এরমধ্যেই নিহত হয়েছেন কয়েক জন। মাঠে ২০ দলের নেতাকর্মীরা তেমনভাবে না থাকলেও চলছে ভাঙচুড় ও যানবাহনে আগুন দেয়ার মতো সহিংস ঘটনা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে, মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে পুলিশ। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ৫ জানুয়ারি রাজপথ দখলে নেয় মহাজোট।
এদিকে, পুলিশি ব্যবস্থায় নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এমন উত্তেজনায় বিচ্ছিন্নভাবে দেশের কিছু জায়গায় চলে সহিংস তাণ্ডব।
এ অবস্থায় সামনে চলে আসে প্রশ্ন, কী করতে যাচ্ছে বিএনপি? তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটান বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া নিজেই। পুলিশের বাধায় সমাবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে ঘোষণা দেন অনির্দিষ্টকারের অবরোধের।
তবে রাজপথ দখলে রাখে আওয়ামী লীগ। বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষে নাটোর, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ ও নোয়াখলীতে নিহত হন ৬ জন। মাঠে ২০ দলের নেতা-কর্মীরা তেমনভাবে না থাকলেও চলছে ভাংচূড় ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার মতো সহিংস ঘটনা।
পলাতক আসামি হওয়ায়, তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার নিষিদ্ধের আদেশ দেয়া বিচারপতি কাজী রেজা উল হকের ফেনীর গ্রামের বাড়িতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। বোমা হামলা হয় বেঞ্চের আরেক বিচারপতি সাইফুর রহমানের ধানমণ্ডির বাসার সামনেও।
এদিকে, হত্যা, অগ্নিসংযোগ আর ভাংচূড়সহ বিভিন্ন অভিযোগে এ পর্যন্ত আটক ও গ্রেপ্তার হয়েছেন ৭ শতাধিক, মামলা হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার জনের বিরুদ্ধে। আর এ রাজনৈতিক সহিংসতার বিরূপ প্রভাব পড়েছে অর্থনীতির ওপর।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের হিসাবে উৎপাদন, পণ্য সরবরাহ, কর্মঘন্টা, রপ্তানি সব মিলিয়ে প্রতিদিন ক্ষতির পরিমান গড়ে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।
তবে সাধারণ মানুষের অবরোধ উপেক্ষার বিষয়টি লক্ষণীয়। জীবন-জীবিকার তাগিদে রাজপথ ও কর্মক্ষেত্র রয়েছে তাদের সরব উপস্থিতি। ট্রেন ও লঞ্চ চলছে স্বাভাবিক নিয়মেই। দিনে সংখ্যায় কম হলেও দূরপাল্লার বেশিরভাগ বাসও ছাড়ছে রাতে।
রাজধানীতে অবরোধের প্রভাব পড়েনি বলেই চলে। সব ধরণের প্রতিষ্ঠানই খোলা, সংখ্যায় কম হলেও চলেছে সব ধরণের যানবাহন।