বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধের ষষ্ঠ দিনে নড়াইলে একটি যাত্রীবাহী পরিবহনে পেট্রল বোমা হামলায় ৫ জন আহত হয়েছেন। এদিকে, রাজধানীর জীবনযাত্রা আগের দিনগুলোর মতোই স্বাভাবিক রয়েছে।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, নড়াইল শহরের রুপগঞ্জ বাজার কাউন্টার থেকে ঢাকাগামী ঈগল পরিবহনের একটি নৈশ কোচ (ঢাকা-মেট্টো-ব-১১-০২৬৮) ছেড়ে শহরের রুপগঞ্জ বাজার ছেড়ে হাতিরবাগান এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বাসে আগুন ছড়িয়ে পড়লে চালক বাসসহ যাত্রীরা বাস থেকে নেমে যায়। বাসে কমপক্ষে ৩০ জন যাত্রী ছিলেন এরমধ্যে কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আগুন দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে সংবাদ দিলে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পেট্টোল বোমার বিস্ফোরণের আলামত উদ্ধার করেছে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা বিএনবিপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নড়াইল পৌরমেয়র জুলফিকার আলী, যুগ্ম-সম্পাদক ও মাইজপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহাবুব মোর্শেদ জাপলসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এদিকে, হবিগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষে ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হন ১৫ জন। নারায়ণগঞ্জে মহাসড়কে আগুন ধরিয়ে অবরোধের চেষ্টা করে পিকেটাররা। তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এছাড়াও, দেশের বেশ কিছু জায়গায় যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে অবরোধকারীরা।
নাশকতার আশঙ্কায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপি -জামাতের শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার হুজরাপুর এলাকায় শনিবার রাতে একটি টমোটো বোঝাই ট্রাক ভাঙচুর করে অবরোধ সমর্থকরা। পরে ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে আগুন দিয়ে অবরোধের চেষ্টা করে। এ সময় তারা বেশ কিছু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে।
বরিশালের কাশিপুর চৌমাথা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল থেকে সড়কে আগুন দেয় শিবিরকর্মীরা। পিরোজপুরেও ২টি বাস ভাঙচুর করা হয়।
সাতক্ষীরার লাবসা পলিটেকনিক এলাকা থেকে শনিবার রাতে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ১০টি পেট্রোল বোমা উদ্ধার করেছে (র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন) র্যা ব-৬। অবরোধের সমর্থনে খুলনার পিটিআই মোড় থেকে মিছিল বের করে বিএনপি নেতাকর্মীরা।
এছাড়াও রাতে দিনাজপুরে বীরগঞ্জ, বটতলী ও পাঁচবাড়ি এলাকায় পণ্যবোঝাই ৩টি ট্রাকে আগুন দিয়েছে অবরোধকারীরা। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সড়কের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি শহরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশী প্রহরায় খুলনা, নড়াইল, বরিশালসহ দেশের অন্যান্য স্থান থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল করছে। স্বাভাবিক রয়েছে ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল।
এদিকে, রাজধানীর সড়কগুলোতেও ২০ দলের ডাকা অবরোধের ষষ্ঠ দিনে সব ধরনের যানবাহনই চলাচল করছে। রাজধানীর সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। স্বাভাবিক রয়েছে লঞ্চ চলাচলও। দূরপাল্লার বাসও চলছে অনেক রুটে। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
গুলশানে নিজ কার্যালয়ে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মূল ফটকের তালা খুলে দেয়া হলেও অসুস্থ থাকায় কার্যালয় থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেননি তিনি।
কার্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেকটাই শিথিল হয়ে এসেছে। তবে গেটের সামনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে। আগের মতোই রয়ে গেছে পুলিশের টহল গাড়ি এবং জলকামানের ব্যারিকেড।