বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বসে বিশ্ব ইজতেমার প্রথমপর্বের আখেরি মোনাজাত অংশ নিয়েছেন। রোববার চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার এ তথ্য জানান।
এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীর গুলশানে নিজ কার্যালয়ে ‘অবরুদ্ধ’ রয়েছেন খালেদা জিয়া।
এদিকে, নবম দিনের মতো রাজধানীর গুলশানে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গুলশান কার্যালয়ের সামনে ৬টি ট্রাকে ইট, বালু ও কাঠ রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিছুটা শিথিল করা হলেও কার্যালয়েই অবস্থানের পরেও এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে কেউ দেখা করতে আসেনি।
আগের মতোই চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনের রাস্তাটির একপাশে একটি জলকামান, অন্যপাশে পুলিশের দুটি ট্রাক রাখা হয়েছে। বাসার মূলফটকে নারী পুলিশ অবস্থান নিয়ে আছেন। ফটকের দুই পাশে পাহারা দিচ্ছেন পুলিশের বেশ কিছু সদস্য।
এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে একবার কার্যালয়ের তালা খুলে দেয়া হয়। তারপর আবার রাতে তালা দেয়া হয়। আগের মতোই রয়ে গেছে পুলিশের টহল গাড়ি এবং জলকামানের ব্যারিকেড।
গত ৩ জানুয়ারি রাতে পুলিশ ওই কার্যালয়ের মূলফটকে তালা দেয়। একই সঙ্গে কার্যালয়ের সামনে বিপুল পুলিশ মোতায়েন এবং রাস্তায় ইট, বালু ও মাটিভর্তি ১১টি ট্রাক দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। ৫ জানুয়ারি বের হওয়ার চেষ্টা করলে পেপার স্প্রে ছোড়ে পুলিশ। এরপর থেকে খালেদা জিয়া কার্যালয়েই অবস্থান করছেন।
শুক্রবার সকালে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের মূল ফটকের তালা পুলিশ আবার খুলে দেয়। কিন্তু কার্যালয় থেকে বের হওয়ার অবস্থা নেই। এর আগে বৃহস্পতিবারও দিনের বেলায় ফটকের তালা খুলে দিয়ে রাতে আবার তালা দেয় পুলিশ।
গতকাল পর্যন্ত পুলিশের অনুমতি নিয়ে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। আবার অনেকে যেতে না পেরে ফটক থেকে ফিরে গেছেন।
সরকারি সূত্র মতে, তাদের কাছে খবর ছিল ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করার লক্ষ্যে খালেদা জিয়া ৩ জানুয়ারি রাতেই নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাবেন। সমাবেশ করতে পারলে নেতা-কর্মীদের নিয়ে নয়াপল্টনে অবস্থান নিতে পারেন বলেও গোয়েন্দা তথ্য ছিল। এ কারণে দুই দিন আগেই খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।