বিএনপি কোনো দিনই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না—বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার বিকেল বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্যে করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি হয়েছেন জঙ্গিদের নেত্রী, সন্ত্রাসীদের নেত্রী, তিনি রাজনৈতিক নেত্রী হতে পারেননি।
যুদ্ধাপরাধী ও পরাজিত শক্তির হাত কখনোই তিনি ছাড়েননি—এ কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জামাত নির্বাচনে করতে পারবে না বলে বিএনপি নির্বাচনে আসেনি, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে কোনো রাজনৈতিক নেতা ভুল করতে পারেন, তার সেই ভুলের মাশুল তাকে এবং তার দলকে দিতে হয়। অবরোধের নামে দেশের জনগণের ওপর আর অত্যাচার চালাবেন না। নিরীহ জনগণের ওপর আর পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারবেন না।
শেখ হাসিনা বলেন, আপনার ভুলের খেসারত আপনাকে আপনার দলকে দিতে হবে। জনগণ কেন আপনার ভুলের খেসারত দিবে? জনগণের জান-মাল রক্ষার জন্য সরকারের যা যা করার দরকার তাই করবে।’
খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়নি–এ কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ইচ্ছা করলে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ডাকে কেউ এখন সাড়া দেয় না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, 'উনি অবরোধ ডাকেন, উনার অবরোধ কে মানে? কেউই মানে না। উনি মানুষের নেতা হতে পারেননি, জঙ্গিদের নেত্রী হয়েছেন।' খালেদা জিয়া ঘর ছেড়ে অফিসে থাকেন কেন? কারণ এটা উনার অভ্যাস। ঘর ছেড়ে পালানোর অভ্যাস উনার নতুন নয়। উনি অবরুদ্ধ নন। উনি চাইলে বাসায় যেতে পারেন।'
এ সময় তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়নের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন বাংলাদেশ ক্ষুধা, দারিদ্র্য বিমোচন করে উন্নতির দিকে যাচ্ছে তখনই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নাটক শুরু করেছেন। দেশের নিরীহ মানুষের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছেন। পেট্রোলবোমা, গানপাউডার দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা হচ্ছে।
আজকের সমাবেশের মূল বক্তব্য : ১. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে, সেটা চলমান প্রক্রিয়া, ২. পাড়ায় মহল্লায় সন্ত্রাসী চিহ্নিত করে পুলিশে সোপর্দ করুন, ৩. ২০২১ সালের আগে মধ্যম আয়ের দেশ ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ, ৪. দেশের মানুষের শান্তি নিরাপত্তার জন্য সরকার সব কিছু করে যাবে, ৫. বাংলাদেশ আগামীতে দরিদ্রমুক্তি দেশ হবে, ৫. রাজনীতিতে ভুলের খেসারত তাকেই দিতে হবে, ৬.উনি মানুষ খুন করবে আমরা ঘরে বসে থাকবো এটা হবে না, ৭. খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ রাখা হয়নি, বাড়ি যেতে চাইলে যেতে পারেন। ৮.বিশ্ব ইজতেমায় অবরোধ বাদ দিতে পারলেন না, ৯. ৫ জানুয়ারি নির্বাচন যদি বৈধ না হয় তাহলে এতোগুলো দেশের পার্লামেন্টে ভোট দিত না, ১০ খালেদা জিয়ার অবরোধ দেশের জনগণের সাড়া নেই, ১১. বিএনপি নেত্রীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে, ১২. ওয়াদা অনুযায়ী পদ্মা সেতুর কাজ নিজস্ব অর্থায়নে শুরু করা হয়েছে, ১৩. আমরা এক বছর সফলতার সঙ্গে কাটিয়েছি, ১৪. নির্বাচনে আসলে ভরাডুবি হবে জেনে বিএনপি নেত্রী নির্বাচনে আসেন নি, ১৫. ২০০৮ সালে জনগণ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছিল, ১৬. পরাজিত শক্তির পদলেহন করা বিএনপির কাজ, ১৭. বিএনপি এদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, ১৮. ২১ বছর পর সঠিক ইতিহাস বিজয়ের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে, ১৯. জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতির সুযোগ দিয়েছেন, ২০. অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল জেনারেল জিয়া, ২২. জাতির পিতার উপহার দেয়া সংবিধান ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছিল।
সমাবেশে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বিএনপির উদ্দেশ্যে বলেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।
এদিকে, সমাবেশস্থলে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ব্যাগ পাওয়া যায়, সেটি পরীক্ষা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সমাবেশের কারণে রাজধানীর শাহবাগ থেকে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শাহবাগ থেকে কোনো দিকেই কোনো গাড়ি চলছে না। সমাবেশে আসা যানবাহনগুলোও রাস্তায় এলোমেলোভাবে রাখা হয়েছে।
এদিকে, সকালে সমাবেশ করতে আওয়ামী লীগকে অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সকালে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
মাসুদুর রহমান বলেন, ঢাকা মহানগরে সমাবেশের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন জাতীয় সংসদের উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।
৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকায় ডিএমপি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
এর আগে গতকাল আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই এ সমাবেশ করা হবে আর অনুমতি নিয়েই সমাবেশ করা হবে।
রোববার বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সমাবেশস্থলের প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
জনসভা, জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে আশা করেন দলের নেতারা।
বিশ্ব ইজতেমার কারণে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের জনসভা শনিবারের বদলে সোমবার করার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ। বিএনপির পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে দশম সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি উদযাপনে ৫ জানুয়ারির জনসভা না হওয়ায় সোমবারের এ জনসভা বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে আওয়ামী লীগের কাছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রক্ষাপটে এ জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন বলে ধারনা করছেন তারা।
এর আগে, বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যলয়ে জনসভা সফল করতে বর্ধিত সভা করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ। নেতারা নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের জনসভা সফল করার আহ্বান জানান।