দেশের জনগণ চাইলে হরতাল-অবরোধ বন্ধে আইন করা হবে –এ কথা উল্লেখ করে যে আইনে জনগণের সম্পৃক্ততা রয়েছে, সে আইন করা হবে আর হরতাল বন্ধে জন দাবি উঠলে এ বিষয়েও আইন করা যেতে পারে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মিট দ্যা রিপোর্টার্স’ এ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শুরুতেই সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার বিচারের ব্যপারে কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
হরতালে নামে এখন যেটা হচ্ছে সেটা হচ্ছে সন্ত্রাস, এগুলো মোকাবেলায় সন্ত্রাস দমন আইন আছে আর এখন এ আইন প্রয়োগ করা হবে—এ কথা জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, দেশের জনগণ ও সব রাজনৈতিক দল একমত হলে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি বন্ধে সরকার আইন করবে।
সরকার এমন কোনো আইন করবে না যা জনগণ মানবে না।
এ সময় মন্ত্রী নির্বাচনী ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে এ মুহূর্তে কোনো আলোচনা হবে না বলে জানান আইনমন্ত্রী।
বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হতে পারে না।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আইনমন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না, মানুষের জান-মাল রক্ষায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে আইন করে হরতাল বন্ধের ইচ্ছা নেই।
দশম জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও কোনো বিতর্ক নেই দাবি করেন আইনমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে আইমন্ত্রী জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের রিভিউ পিটিশন দাখিলের জন্য রায়ের পর ১৫দিন সময় দেয়ার পক্ষে মত দেন আইনমন্ত্রী।
অন্যদিকে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী ও দণ্ডপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সংগঠন হিসেবে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে জামাতের বিচারের ব্যাপারে আইনের সংশোধনী খসড়া এ মাসের শেষের দিকে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হবে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, 'মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত সংগঠনের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের সংশোধনীর খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। জানুয়ারির শেষ দিকে এ খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে বলে আশা করছি।