পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সোমবার রাতে তার রাজনৈতিক কার্যালয় গুলশানে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের চাপে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন কি না— এ প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, 'সাংবাদিকরা অবরোধ কর্মসূচি দিতে বাধ্য করেননি। বাধ্য করেছে সরকার।'
সংবাদ সম্মেলন সরকার দেশের মধ্যে নৃশংস ঘটনা ঘটাচ্ছে— এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যৌথ বাহিনীর অভিযানের নামে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে সরকার।
সরকারই সুপরিকল্পিত ভাবে এসব নৃশংস ঘটনা ঘটাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, 'ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক বোমাবাজদের গ্রেপ্তার না করে বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের ঘর-বাড়িতে হানা দিয়ে তাদের আটক করা হচ্ছে। নারীসহ পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা করা হচ্ছে। এসব হত্যা-নির্যাতনের ঘটনার জড়িতদের আগামীতে আইনের আওতায় আনা হবে।'
আইন মেনে চলতে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, অবরোধ কর্মসূচি দিতে বাধ্য করেছে সরকার—আওয়ামী লীগ সব সময় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে এখনো করছে। নাশকতার জন্য আওয়ামী লীগই দায়ী।
‘পুলিশি প্রহরায় নারী, শিশু, ছাত্র-ছাত্রীদের বহনকরী যানবাহনে পেট্রোল বোমা মেরে অনেক নিরপরাধ মানুষকে হতাহত ও দগ্ধ করা হয়েছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি ও ২০ দল নিরীহ নিরপরাধ জনগণকে হত্যা ও তাদের ওপর আক্রমণ করা কিংবা তাদের পুড়িয়ে মারার নৃশংস অপতৎপরতায় বিশ্বাস করে না। মানুষের জীবনের বিনিময়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না, কখনো করিনি।'
চলমান রাজনৈতিক সংকট আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য নয়–রাজনৈতিক সংকট রাজনৈতিকভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আবারো সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন খালেদা জিয়া।
দল ও জোটের নেতাকর্মী সারাদেশে যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে চলেছেন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছেন তাদের ধন্যবাদ জানান খালেদা জিয়া।
লিখিত বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, আমাকে অবরুদ্ধ রাখার আগেই ক্ষমতাসীনরা সারাদেশকে অবরুদ্ধ করে, ঢাকাকে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে তারাই (সরকার)।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
গুলশান কার্যালয় থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রত্যাহারের পরও তিনি সেখানে অবস্থান করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, 'এটা আমার অফিস, আমার অফিসে আমি কাজ করব।'
রোববার রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ করেই কার্যালয়ের সামনে থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সরানো শুরু হয়। কার্যালয়ের সামনে এখন শুধু খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দলের সদস্যরা রয়েছে। সেই সঙ্গে অবস্থান করছে তার নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ সদস্যরা।
গত ৩ জানুয়ারি রাত থেকে সেখানে অবস্থান করছেন তিনি।