দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে— উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ২০ দল পরিকল্পিতভাবে নাশকতা করছে তাদের সঙ্গে কেনো আলোচনা নয়।
মঙ্গলবার ধানমণ্ডি কার্যালয়ে দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টার জন্য সরকার ও আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
হানিফ বলেন, দেশকে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টার হুকুমদাতাদের খুব শিগগিরই আইনের মুখোমুখি করবে সরকার।
পেট্রোলবোমার মাধ্যমে মানুষ হত্যাকে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
হানিফ বলেন ‘আমরা আশা করেছিলাম ওই ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়া জ্বালাও-পোড়াও এবং ধ্বংসের রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসার ঘোষণা দেবেন। অবরোধের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারা থেকে তার দলের নেতা-কর্মীদের বিরত রাখার ঘোষণা দিবেন।’
তিনি বলেন,‘কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা দেখলাম তিনি মানুষ পুড়িয়ে মারার রাজনীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। এই ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার রাজনীতি স্বরূপ উন্মোচিত হয়ে পড়েছে।’
হানিফ বলেন, দেশ ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষকে হত্যা করে শুধু স্বাধীনতা বিরোধীশক্তি দেশের ক্ষমতা চেয়েছিল, আজকেও বিএনপি-জামাত একইভাবে যেকোনো মূল্যে দেশকে অস্থিতিশীল ও অকার্যকর করতে চায়।
তিনি বলেন, তার এ প্রেস ব্রিফিংরে মাধ্যমে তিনি যে অবরুদ্ধ নন তাই প্রমাণ করেছেন। অবরুদ্ধ না থাকা স্বত্বেও তিনি সেখানেই থাকবেন বলে জানিয়েছেন। এতে কি এটাই প্রমাণ হয় না যে তিনি অবরুদ্ধের নাটক সাজিয়েছিলেন। অবরুদ্ধ থাকলে তার সঙ্গে কিভাবে নেতা-কর্মীরা দেখা করছেন, কিভাবে স্থায়ী কমিটির সভা করছেন।
হানিফ বলেন, জিয়া পরিবারের লোভের লেলিহান শিখায় দেশ পুড়ছে। কেউ তাদের নৃশংসতা থেকে রেহাই পাচ্ছে না
তিনি বলেন,আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন আইএসের সমন্বয়কারী দেশে বড় ধরনের নাশকতামূলক ধ্বংসাত্মক কার্য করার জন্য পরিকল্পনা এটেছিল। খালেদা জিয়ার সঙ্গে এই জঙ্গিবাদী অপশক্তির সম্পর্ক আছে।
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার নির্দেশনাতেই বিএনপি-জামায়াত অবরোধের নামে বোমা নির্ভর তথাকথিত মানুষ পুড়িয়ে মারার আন্দোলনের কর্মসুচী গ্রহণ করছে। আমরা তাদের এই ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আমাদের ন্যায়সংগত এই সংগ্রামে জনগণের সমর্থন প্রত্যাশা করছি।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই স্বাধীন দেশ ককটেল ও পেট্রোল বোমার কাছে আত্মসমপর্ণ করবে না, সন্ত্রাস ও জঙ্গি গোষ্ঠীর অভয়ারণ্য পরিণত করতে দেওয়া হবে না, শান্তির বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের অঙ্গীকার।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে কোন রাজনৈতিক সংকট নেই। কেননা আগুন দিয়ে গাড়ী পোড়ানো, পেট্রল বোমা নিক্ষেপ ও মানুষ হত্যা কোন রাজনৈতিক কর্মসূচী নয়। এগুলো সন্ত্রাসী ও নাশকতা মূলক কর্মকান্ড।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দমনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে। তারা জনগনের জান-মাল রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি ও দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীতে আরেক আলোচনায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি-জামাত সংঘাতের পথ পরিহার করলেই আলোচনায় বসার কথা চিন্তা করা করবে সরকার।