অবরোধের পাশাপাশি ঢাকা ও খুলনা বিভাগে হরতাল পালন করেছে বিএনপি। ঢিলেঢালা হরতাল-অবরোধের তেমন কোনো প্রভাব নেই রাজধানীর জনজীবনে। সংখ্যায় কম হলেও সকাল থেকেই যানবাহন চলেছে। রাজধানী থেকে ছেড়ে যাচ্ছে ট্রেন ও লঞ্চ। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্ন সভা-সমাবেশ ও নাশকতা চালানোর চেষ্টা করে অবরোধকারীরা।
এদিকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সারাদেশে মোটরসাইকেলে চালক ছাড়া অন্য কোনো আরোহী বহন নিষিদ্ধ করেছে বিআরটিএ।
এছাড়া রাজধানীতে রাজনীতির নামে যারা সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে তাদের চিহ্নিত করে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিল্পী সমাজ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে এক সমাবেশে শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী ও শিল্পী মনিরুজ্জামান এ আহ্বান জানান।
এ সময় বক্তারা বলেন, বোমাবাজদের সঙ্গে সরকারের কোনো সংলাপ হতে পারে না।
যারা রাজনীতির নামে অপরাজনীতি করছে কঠোর অবস্থানে থেকে তাদের মোকাবেলা করতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানান তারা।
দুর্বৃত্তদের প্রতিহত করতে সকল শিল্পীদের রং, তুলি নিয়ে রাস্তায় আসার আহ্বান জানানো হয় সমাবেশ থেকে।
ফিরে যাই অবরোধ- হরতালে:
রাজধানীর রাস্তায় যানবাহনের এ চাপ দেখে বোঝার উপায় নেই যে, সারাদেশে অনির্দিষ্টকালে অবরোধের পাশাপাশি ঢাকা ও খুলনা বিভাগে ৪৮ঘণ্টার হরতাল পালন করছে বিএনপি জামাত নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোট।
হরতালের ২য় দিন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সংখ্যায় কম হলেও রাজধানীতে ছিল সব ধরনের যানবাহন চলাচল। তবে নাশকতার আশঙ্কায় দূরপাল্লার বাস চলাচল ছিল কম।
সদরঘাট থেকে নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় সব রুটের লঞ্চ।
সারাদেশে ট্রেন চলাচল করলেও সময়সূচি ঠিক না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।
যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নেতাকর্মীশূন্য বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনেও রয়েছে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এদিকে, গতরাতে দিনাজপুরের কাহারোলে ও ঘোড়াঘাটে ২টি ট্রাকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে অবরোধকারীরা। এতে দুই ট্রাকের চালকসহ দগ্ধ হয় ৪ জন। নোয়াখালীতে একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেয় অবরোধকারীরা।
খুলনার পিটিআই মোড় থেকে মিছিল বের করে কার্যালয়ের সামনে এসে সমাবেশ করে জেলা বিএনপি। রাজশাহীতে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জেলা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু, সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ ৮৯ বিএনপি-জামাত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
বগুড়া শহরের হাকির মোড়ে মিছিল করে শিবির, পরে আগুন জ্বালিয়ে তারা রাস্তা অবরোধ করে রাখে। এদিকে নাশকতার অভিযোগে বগুড়ায় যুবদল ও শ্রমিকদলের দুই নেতাকে এক বছর করে সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।