বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের পরিণতি হবে সরকারের রাজনৈতিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার দুপুরে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে রিজভী বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকারের প্রধান থেকে শুরু করে অন্যান্য সদস্যবৃন্দ ও শাসকদলের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য বিবৃতি শুনলে মনে হয় কে কতো নিম্ন রুচির ভাষা প্রয়োগ করতে পারে সেটারই প্রতিযোগিতা করছে তারা। মহান জাতীয় সংসদকে যেন আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় কার্যালয় কিংবা আওয়ামী মহাজোট সরকারের ক্লাব ঘরে পরিণত করা হয়েছে।
গানবাজনা থেকে শুরু করে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে গালিগালাজ এবং বর্তমান চলমান আন্দোলন দমানোর হুমকি-ধামকির প্রতিযোগিতা চলছে বলেও জানান তিনি।
বিএনপি নেতা আরো বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে গ্রেফতার ও বিচার করার জন্য তারা তারস্বরে চিৎকার জুড়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাই শেখ সেলিম বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে নাকি প্রকাশ্যে রাস্তায় ধরে এনে বিচার করা হবে। শেখ সেলিমের এ ধরণের বক্তব্য কেবল শেখ হাসিনাকে খুশী করা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিপুল জনপ্রিয়তা ও বিএনপি'র অস্তিত্ব প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র জ্বালা।
রিজভী বলেন, এখন একদলীয় রাষ্ট্র, একদলীয় জাতীয় সংসদ, একদলীয় নির্বাচন, একদলীয় জনপ্রশাসন এবং একদলীয় বিচার ব্যবস্থা বিরাজমান। সুতরাং সমগ্র রাষ্ট্রটিকেই আওয়ামীকরণ করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় আইনি প্রক্রিয়ার অর্থ হচ্ছে- প্রধানমন্ত্রীর জারিকৃত ফরমানের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন।
তিনি বলেন, 'আওয়ামী শাসন আর মরণের বার্তা যেন সমার্থক। জনগণের কণ্ঠনালী কেটে গণতন্ত্রকে কবরস্থ করার ঐতিহ্য এদেশে একমাত্র আওয়ামী লীগেরই। সেজন্য নতুন রূপে নয়, আসল রূপেই বাকশালকে চূড়ান্ত রূপে দাঁড় করানো হয়েছে আর এজন্যই বেগম জিয়াকে বন্দি করার নানা ফন্দি আঁটা থেকে শুরু করে গণমাধ্যমকে শুধুমাত্র সরকারের সকল বার্তা প্রচারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বাকস্বাধীনতার আইনগত অধিকারকে শুলে চড়ানো হয়েছে বলেও জানান দলটির যুগ্ম মহাসচিব।