বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের আন্দোলন রাষ্ট্রের দমনমূলক শক্তি দিয়ে দমন করতে গিয়ে সারাদেশকেই রক্তঝরা হানাহানির দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছের দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গুম, গুপ্তহত্যা ও গ্যাস চেম্বারের অব্যবহিত পরেই আসে কুখ্যাত নাৎসী সহযোগীদের বিচারের জন্য ন্যুরেমবার্গ ট্রায়াল। ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালের ন্যায় বাংলাদেশের মাটিতেও যে দেশের নাৎসী সহযোগীদের বিচার হবে না এটা যেন কেউ মনে না করে। সুতরাং এখন থেকেই কারাগারগুলো সংস্কার করে রাখলে ভাল হয়।
তিনি আরো বলেন, বাকশালের চূড়ান্ত রূপ দিতে এ অবৈধ নাছোড়বান্দা সরকার রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্র দখল করে নিয়েছে। অবিরাম কুৎসার ধারা বর্ণনা ছাড়া গণমাধ্যমে এখন ন্যায়সংগত প্রতিবাদ বা আন্দোলনের খবর প্রকাশিত হয় না। তাই এখন পুলিশ লীগ ও র্যাব লীগের ন্যায় প্রভাবিত গণমাধ্যমগুলোকে গণমাধ্যম লীগ হিসেবে মানুষ অভিহিত করছে। বিরোধীদলের কর্মসূচিকে গণবিরোধী দেখানোর জন্য যেন প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে কয়েকটি প্রিন্ট ও বৈদ্যুতিক গণমাধ্যম।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তীব্র সমালোচনা করে রিজভী তিনি বলেন, ২০০৯ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়ে জ্যেষ্ঠতা ও দক্ষতাকে ডিঙিয়ে আওয়ামী লীগপন্থী পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের স্ব স্ব বিভাগের প্রধান পদে অথবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করা হয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত রাষ্ট্রানুকূল্য পেয়ে তারাই এখন বেপরোয়া বেআইনি এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ করছেন। দেশের বিরোধীদলের আন্দোলন দমাতে এরা সর্বনাশা নির্মূল যুদ্ধে নেমে পড়েছে।
দেশব্যাপী ক্রসফায়ার আর বন্দুকযুদ্ধের মনগড়া কাহিনি তৈরি করে আন্দোলনরত তরুণ নেতাকর্মীদের মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে এরাই হত্যা করেছে বলেও জানান রিজভী আহমেদ।
তিনি আরো বলেন, রক্তের ঘ্রাণ নেয়াটাই যেন তাদের একমাত্র দায়িত্ব, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নয়। সরকারের পতন হলে নিজেদের পরিণতির কথা ভেবেই তারা দানবীয় শক্তি নিয়ে চলমান আন্দোলনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে।