অবরোধে চট্টগ্রামে ককটেল ছুঁড়তে গিয়ে নিজের হাতে বিস্ফোরিত হয়ে আহত শিবির কর্মী মো. সাকিবুল ইসলাম বুধবার মারা গেছেন।
বুধবার ভোরে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।
নিহত সাকিব লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা গ্রামের মৃত ওসমানুল হকের ছেলে। সে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
চট্টগ্রামের বায়তুস শরফ মাদ্রাসার শিবিরের "সাথী" বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ২০ জানুয়ারি রাতে সাকিবসহ দুই যুবক ব্যাটারিচালিত একটি রিকসায় ককটেল ছুঁড়ে মারে। এ সময় ককটেলটি রিকসার গায়ে লেগে ফিরে সাকিবের হাতে এসে বিস্ফোরিত হয়। মারাত্মক আহত হয় সাকিব। আহত অবস্থায় সাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়।
এদিকে, ২০ দলের ডাকা টানা অবরোধের ২৩তম দিনেও স্বাভাবিক রয়েছে রাজধানীর জনজীবন। অবরোধের মধ্যে সকাল থেকেই স্বাভাবিক দিনের মতোই সব সড়কেই রয়েছে যান-বাহনের চাপ। লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও কমলাপুর থেকে বেশ কিছু ট্রেন বিলম্বে ছেড়ে গেছে। যাত্রী সংকট থাকায় কম সংখ্যায় ছেড়ে যাচ্ছে দূরপাল্লার বাস। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। তবে পেট্রোলবোমার আতঙ্কে শঙ্কিত সাধারণ মানুষ।
সহিংসতা মোকাবেলায় রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণস্থানে মোতায়েন রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নাশকতার অভিযোগে রংপুর ও বরিশাল থেকে বিএনপি এবং জামাত-শিবিরের ১৫ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
মাগুরায় অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রোলবোমার আগুনে দগ্ধ হয়েছেন ট্রাকচালক ও হেলপার।
এদিকে, রংপুর-রাজশাহী বিভাগসহ গাজীপুর ও কুমিল্লাতে জামাতের ডাকা হরতাল পালিত হয়েছে ঢিলেঢালাভাবে।
এদিকে, সকালে বরিশাল শহরের কাশিপুর এলাকা থেকে পিকেটিংয়ের সময় পেট্রোল বোমাসহ দুই শিবির কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পেট্রোল ছুঁড়ে যাত্রীবাহী বাস পোড়ানো মামলায় আটক দুই শিবিরকর্মী জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ আদালতের অতিরিক্ত পিপি ফজলুর রহমান জানান, গত ২৪ জানুয়ারি কাশিপুর এলাকায় বাসে পেট্রোল ছুড়ে আগুন দেয়ার সময় এলাকাবাসী তিন শিবিরকর্মীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
পরে তাদের তিন দিনের রিমান্ডে থাকা দুই শিবিরকর্মী শিহাব ও সাঈদকে সকাল সাড়ে ৯টার সময় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ সিদ্দীকির আদালতে হাজির করা হয়।
সেখানে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে গাড়িতে আগুন দেয়ার কথা স্বীকার করে তারা। অপর শিবিরকর্মী মাহমুদকে অসুস্থতার জন্য আদালতে হাজির করা হয়নি বলেও জানান ফজলুর রহমান।