বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের চলমান হরতাল আরও ৪৮ ঘণ্টা বেড়ানো হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত হরতাল বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ এ ঘোষণা দেন।
এর আগে, ২০ দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা-হামলা নির্যাতন ও সরকারি এজেন্ট দিয়ে নাশকতা সৃষ্টির প্রতিবাদে রোববার থেকে ৭২ ঘণ্টার হরতাল চলছে।
বিবৃতিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাত ৯টার পর মহাসড়কে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে সরকারের অস্তিত্বহীনতাকেই স্বীকার করে নেয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে সালাহউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, ‘অচিরেই সরকার দিনের বেলাতেও সকল সরকারি অফিস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে।
প্রধানমন্ত্রী চলমান রাজনৈতিক সংকটকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ নামে অভিহিত করেছেন: মূলত পঞ্চদশ সংশোধনীর পক্ষে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার একক সিদ্ধান্ত ও ক্ষমতা চিরস্থায়ীকরণে তাঁর উগ্র বাসনাই কথিত মানবসৃষ্ট দুর্যোগের উৎপত্তির কারণ এবং সে জন্য তিনি ও তাঁর দল দায়ী।’
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আওয়ামী সরকার অবৈধ ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য এমন কোনো অপকর্ম নেই, যা তারা করছে না। সরকারকে যত সন্ত্রাস, কূটকৌশল ও ছলচাতুরির আশ্রয় নিতে হোক না কেন, তবু ক্ষমতার মসনদ ত্যাগ করা যাবে না—এ যেন আওয়ামী অবৈধ সরকারের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে অসৎ উদ্দেশ্য সামনে নিয়েই তারা জনপ্রশাসন, পুলিশ, র্যা ব, বিজিবিকে বেআইনিভাবে বিরোধী দল দমনে সকল নিষ্ঠুর প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে।
ইতিমধ্যে দলীয়করণ, কুক্ষিগত বিচারব্যবস্থা ও দলীয় মনোভাবাপন্ন বিচারকদের মাধ্যমে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের বিচারিক নির্যাতনের মহড়া চালানো হচ্ছে। ফলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ ২০-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের পুলিশি রিমান্ডে অমানবিকভাবে দিনের পর দিন নির্যাতিত হতে হচ্ছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রকৃত অর্থে ক্ষমতা চিরস্থায়ীকরণে আওয়ামী লীগের উগ্র বাসনায় চলমান রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ।