অবরোধ-হরতালে প্রায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিএনপি— জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান।
এদিকে, বাংলাদেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সামনে মঙ্গলবার বিএনপির নেতাকর্মীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
মঙ্গলবার ভারতীয় দৈনিক টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে পাঠানো সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
গতকাল বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে দেয়া সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের দিনই টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে ইমেইলে পাঠানো সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
মঈন খান বলেন, চলমান অচলাবস্থা নিরসনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংলাপ আয়োজনে জাতিসংঘের যে কোনো উদ্যোগকে স্বাগত জানাবেন তারা।
সংলাপে বসার মতো গণতান্ত্রিক পরিবেশ দেশে নেই— উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাসহ প্রায় ১০ হাজার কর্মী মিথ্যা মামলায় আটক রয়েছেন।
বিএনপির এ নেতা মনে করেন, ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়া এবং চীনের মধ্যে সেতুবন্ধন হওয়ায় এখানের কোনো সমস্যায় ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মতো এ অঞ্চলের প্রভাবশালী দেশগুলোর উদ্বেগের কারণ রয়েছে।
বাংলাদেশের বর্তমান অচলাবস্থার দ্রুত সমাধান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও স্বার্থসংশ্লিষ্ট—মন্তব্য করে মঈন খান আরো বলেন, একমাত্র আলোচনায়ই সঙ্কটের সমাধান আনতে পারে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যে কোনো সঙ্কট উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে আলোচনা— উল্লেখ করে আলোচনা ব্যর্থ হলে পরবর্তী পদক্ষেপও হবে আলোচনাই বলেও জানান তিনি।
সহিংস আন্দোলনের পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপির এই প্রবীন নেতা বলেন, গণতান্ত্রিক আচরণ ও মূল্যবোধের অভাবে দীর্ঘ সময় ধরে সৃষ্ট রাজনৈতিক দ্বন্দ্বেরই ফল হচ্ছে এই সহিংসতা।
চলমান সহিংসতা ‘রোগ নয়, রোগের উপসর্গ’— মন্তব্য করে এর সঙ্গে বিএনপির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করেন মঈন খান।
নাশকতার জন্য উল্টো সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে তিনি বলেন, আশ্চর্যের বিস্ময়, সরকার এখনো একজন চিহ্নিত অপরাধীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়নি। অপরাধীরা শাসক দলের সহায়তা পাচ্ছে।
গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ৫ জানুয়ারি সারা দেশে লাগাতার অবরোধের ডাক দেয়ার পর প্রতিদিনই গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটছে। নাশকতার এসব ঘটনায় এরইমধ্যে আগুনে পুড়ে অর্ধ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।