বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা-হামলা নির্যাতন ও সরকারি এজেন্ট দিয়ে নাশকতা সৃষ্টির প্রতিবাদে লাগাতার অবরোধের মধ্যেই রোববার ভোর ৬টা থেকে সারাদেশে ৭২ ঘণ্টার হরতাল শুরু হয়েছে। নাশকতার আশংকায় রাজধানী, খুলনা ও চট্টগ্রামে ২৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
অবরোধ-হরতালের মধ্যে বগুড়ার শেরপুরে পুলিশের সঙ্গে জামাতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবির নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের শটগানের গুলিতে আহত হয়েছেন এক শিবির কর্মী। তাকেসহ তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হামছায়াপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে শেরপুর থানার ওসি আলী আহমেদ হাসমী জানান। আটকরা হলেন- রানা (৩০), শুকুর আলী (৩৭) ও ওয়াজেদ আলী (৩৮)। এদের মধ্যে রানা শিবিরের এবং বাকিরা জামাতের কর্মী।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসমী বলেন, জামাত-শিবির মহাসড়কে মিছিল করে নাশকতা সৃষ্টির প্রস্তুতি নেয়ার সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় তারা পুলিশের দিকে হাতবোমা ছোড়ে। পুলিশ শটগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি বলেন, শিবিরকর্মী রানার কোমরের নিচে গুলি লেগেছে। ঘটনাস্থল থেকেই রানাসহ বাকি দুই জামাতকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
তবে হরতালের কোনো প্রভাব পড়েনি রাজধানীর জনজীবনে। সকাল থেকেই রিকশা-অটোরিকশার পাশাপাশি চলছে সব ধরনের যানবাহন। সারাদেশে ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল করছে। সংখ্যায় কম হলেও ছেড়ে যাচ্ছে দূরপাল্লার বাস।
যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে, হরতাল-অবরোধ বন্ধের দাবিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে ঢোকার প্রবেশপথজুড়ে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। সকালে বাড্ডা গালর্স হাইস্কুলের প্রায় ৫ শতাধিক ছাত্রী মানববন্ধন করে। এ সময় তারা ক্লাস-পরীক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়।
পরে মানববন্ধন করে কালাচাঁদপুর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, হরতাল-অবরোধের কারণে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই এ ধরনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের দাবিতে এ মানববন্ধন করছে তারা।
এছাড়াও হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে গুলশানে অবস্থান নেয় বিএনএফের নেতাকর্মীরা।
এর আগে শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন, জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতা ও সকল রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে এবং দেশব্যাপী ক্রসফায়ারের মাধ্যমে অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা ও গুলি করে পঙ্গু ও আহত করা, বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীসহ নিরীহ জনগণকে গণগ্রেপ্তার, বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ ও কুক্ষিগতকরণ এবং খালেদা জিয়াকে অভুক্ত রেখে ‘হত্যার ষড়যন্ত্র’, সাংবাদিক নির্যাতন ও সংবাদ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের প্রতিবাদে এ হরতাল আহবান করা হয়েছে।