আদালতের আদেশ দিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে কখনো স্তব্ধ করা যায় না – বর্তমানে রাষ্ট্রের সকল অঙ্গই শাসন বিভাগের হাতে বন্দী— এক ব্যক্তির ইচ্ছার প্রতিফলন হচ্ছে বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ।
সোমবার এক বিবৃতিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আ্হমেদ এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন , ফলে রাষ্ট্রীয় নৈরাজ্যের চুড়ান্ত শিকারে পরিণত হয়েছে আজ দেশ ও জাতি। মানুষের মৌলিক ও মানবাধিকারের শেষ চিহ্নটুকু বিলুপ্ত প্রায়। বিচার বিভাগকে বিরোধীদল ও ভিন্নমত দমনের হাতিয়ারে পরিণত করেছে সরকার।
অবৈধ সরকার ন্যায্য গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধারের আন্দোলনকে দমনের শেষ চেষ্টা হিসেবে আদালতকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক দেওলিয়াত্বকেই স্বীকার করে নিয়েছে প্রকারান্তরে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, আদালতের আদেশ দিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে কখনো স্তব্ধ করা যায়না।
চুড়ান্ত দলীয়করণ ও বিচারক অভিশংসন আইন বিচারিক নৈরাজ্য সৃষ্টির মূল কারণ। ফলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভারসাম্যহীনতার শেষ পরিণতি ভোগ করছে জাতি। স্বাধীনতা পরবর্তী মুজিব সরকার বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং অধীনস্থ বিভাগে পরিণত করেছিল সাংবিধানিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। আওয়ামী লীগের ইতিহাস বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণের ইতিহাস।
আইন বিভাগ অর্থাৎ সার্বভৌম সংসদ এখন ‘বিকাশ মার্কা’ এমপিদের আড্ডাখানা। জাতীয় সংসদ এখন জাতীয় বিষয়াদি ও আইন প্রণয়নের কেন্দ্র বিন্দু নয়; এটা এখন বিএনপি ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে বিষোদগার কেন্দ্র। সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী যে ভাষায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন গতকাল, তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার খাবার ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে যে মাত্রাজ্ঞানহীন, ঘৃন্য ও নিষ্ঠুর বাড়াবাড়ি আপনি প্রদর্শন করছেন তার পরিণাম কখনোই শুভ হবে না।
বিবৃতিতে তিনি আরো উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, বিচার বহির্ভুত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন, অপহরণ, জুলুম-নির্যাতন, হামলা-মামলা ও গণগ্রেপ্তারের দায়ভার হুকুমদাতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে। রাষ্ট্রশক্তির দমন-পীড়ণের প্রতিক্রিয়ায় গণশক্তির বহুমাত্রিক উত্থান হয়েছে আজ। সেই গণশক্তির সুনামীতে স্বৈরশাসকরা খড়-কুটোর মতো ভেসে যাবে অচিরেই।
গণবিরোধী গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন করে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেল বন্ধ, সম্পাদক ও টিভি চ্যানেল মালিকদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করে, মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করে সরকার এখন কেবল টেলিভিশনেই তার অস্তিত্ব প্রকাশ করে চলেছে। টেলিভিশনের বাক্স থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের আওয়াজ শুনুন, পুলিশ পাহারা পরিত্যাগ করে মন্ত্রী-নেতাদের রাস্তায় এবং এলাকা সফর করতে বলুন-তাহলেই সরকারের দিগম্বর দানবীয় চেহারা পরিলক্ষিত হবে।
গতকাল মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার বিএনপি নেতা কাজী মশিয়ার রহমানকে ওসি বিপ্লব কুমার নাথের নেতৃত্বে গুলি করে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়। একইভাবে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে রানীরবন্দর শাখার ছাত্রশিবিরের সভাপতি মতিয়ার রহমানকে যৌথবাহিনী গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ্যে গুলি ও নৃশংস অত্যাচারের মাধ্যমে হত্যা করে। আমরা সরকারি বাহিনীর এহেন জঘন্য নরহত্যার তীব্র ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এহেন ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী আদালতে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ নির্বাচনসহ সকল গণদাবী পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলমান শান্তিপূর্ণ অবরোধ-হরতাল এবং গণআন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সংগ্রামী জনতার বিজয় আসন্ন বলে জানান বিবৃতিতে।