নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচনের লক্ষ্যে জাতিসংঘসহ সকল পক্ষের অর্থবহ সংলাপের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচনের লক্ষ্যে জাতিসংঘসহ সকল পক্ষের অর্থবহ সংলাপের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নামে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক কায়দায় প্রহসনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী লীগ এখন বাংলাদেশের স্বাধীনভুমি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নিতে চায়। বাকশালের চতুর্থ সংশোধনী ও পঞ্চদশ সংশোধনী চরিত্রগতভাবে মূলত: এক ও অভিন্ন। স্বৈরতান্ত্রিক একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের হাতিয়ার হিসেবে সাংবিধানিক ক্যু সংগঠিত করাই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টো।
জনগণের অভিপ্রায় এবং সংকল্পই সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস। অথচ সেই জনগণের মাত্র ৫ শতাংশ ভোটের মালিকানা নিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার নিলর্জ্জ আস্ফালন করছে বলে বিবৃতিতে জানান তিনি।
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, কিন্তু সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই-গণতন্ত্র মু্ক্তির এ আন্দোলনে ভোটের অধিকার, মৌলিক ও মানবাধিকার আদায়সহ সকল ন্যায্য দাবী আদায়ের অপ্রতিরোধ্য গণজোয়ারকে স্তব্ধ করা যাবে না। গণমানুষের ন্যায্য আকাঙ্খাকে প্রতিহিংসার স্টীম রোলার দিয়ে কখনও দাবানো যায় না। সরকারি জুলুম-নির্যাতনের মাত্রা যত বাড়ছে দ্রোহের অগ্নি স্ফুলিঙ্গ ততো দ্রুতগতিতে দাবানলে পরিণত হচ্ছে। আন্দোলনের চুড়ান্ত পর্যায়ে জনগণের স্বত:স্ফুর্ত বিদ্রোহই সরকারের পতন তরান্বিত করবে।
গত মঙ্গলবার রাতে যশোরের মনিরামপুরে পুলিশ ক্রসফায়ারে হত্যা করেছে বিএনপি কর্মী আবু সাঈদ ও বজলুর রহমানকে। সারাদেশে ২০ দলীয় জোটের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে গুলি করে পঙ্গু বানানো হচ্ছে প্রতিদিন, গুম করে ফেলা হচ্ছে অসংখ্য নেতা-কর্মীকে। এ পর্যন্ত প্রায় বিশ হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা এ সকল ঘৃন্য হত্যাকাণ্ড, বন্দুকবাজী ও গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলে এসকল জঘন্য কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের মানবতাবিরোধী অপরাধ আদালতে বিচার করা হবে।
চলমান অবরোধ-হরতাল অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য আমি বিএনপি চেয়ারপানসন ও ২০ দলীয় জোট নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোটের সকলপর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।
নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে চলমান অবরোধ-হরতালে যেসমস্ত নেতা-কর্মী আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করছি।
নিহতদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভুতি জানাচ্ছি। এছাড়া, বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ সারাদেশে গ্রেপ্তারকৃত নেতা-কর্মীদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার করে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে, দেশব্যাপী ক্রসফায়ারের মাধ্যমে অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা ও গুলি করে পঙ্গু ও আহত করার প্রতিবাদে, দেশব্যাপী বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীসহ নিরীহ জনগণকে গণগ্রেপ্তারের প্রতিবাদে, জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধারের দাবিতে, বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ ও কুক্ষিগতকরণের প্রতিবাদে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অভুক্ত রেখে হত্যার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে, সাংবাদিক নির্যাতন ও সংবাদ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের প্রতিবাদে, জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে, অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে ২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে চলমান শান্তিপূর্ণ অবরোধকর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে সরকার গণদাবি মেনে না নিলে আমরা আবারও হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
দেশপ্রেমিক সচেতন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করছে-দেশে বিরোধীদলের বৈধ গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার সকল পন্থা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে উগ্রপন্থা ও অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান হতে পারে। আমরা অবৈধ শাসক শ্রেণীর প্রতি আবারও আহ্বান জানাই-প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষমূলক রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার পথে ফিরে আসুন। দেশকে বাঁচান, মানুষ বাঁচান।