বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার কাছে লোকবলের সহযোগিতা চেয়ে যে গণমিছিল কর্মসূচির ঘোষণা করেছিল নাগরিক ঐক্য তা অবশেষে স্থগিত হয়ে গেছে। শুধুমাত্র কিছু হতোদ্যম কর্মী সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে নিজেদের কার্যালয়ে ফিরে যান।
সংগঠনের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে পারেন নি বলে জানানো হয় সমাবেশ থেকে। কর্মসূচিতে গণফোরাম সভাপতি ড. কামালসহ আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিরাও ছিলেন অনুপস্থিত।
এদিকে, বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে ফোনালাপের কথা অস্বীকার না করে তা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দাবি করেছেন মান্না।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন নাগরিক ঐক্যের কর্মীরা।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সংগঠনটির ছাত্রনেতারা সমাবেশ শুরু করেন। তবে সংগঠনের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ অন্য কোনো নেতাকে দেখা যায়নি। তাদের কর্মসূচিতে আমন্ত্রিত ছিলেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনসহ একাধিক অতিথি। তারাও ছিলেন অনুপস্থিত। বিকেল ৪টার কিছু আগে সমাবেশ শেষ করে নির্ধারিত গণমিছিল কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেয়া হয়।
কর্মসূচি স্থগিতের কারণ হিসেবে সংগঠনের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার অসুস্থতার কথা বলা হয় সমাবেশে। পরে মান্নার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি এখন কোথায় আছেন তাও কেউ জানে না।
সোমবারের ওই গণমিছিল কর্মসূচি নিয়েই সাদেক হোসেন খোকা ও মাহমুদুর রহমান মান্নার মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়। কর্মসূচি সফল করতে সহায়তা চান মান্না।
এরপর চলমান আন্দোলনে বিএনপিকে কীভাবে এগুতে হবে সে বিষয়েও খোকাকে পরামর্শ দেন তিনি।
নিজের সংগঠন ও টিভিতে টকশোর মাধ্যমে সরকারের ওপর কীভাবে চাপ অব্যাহত রেখেছেন তাও খোকাকে জানান তিনি। উঠে এসেছে খালেদা জিয়ার গুলশান অফিসে যাওয়া, সেখানকার লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ড. কামাল হোসেনকে তিনি কীভাবে করায়ত্তে রেখেছেন সে কথাও।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যে কোনো মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করার পরামর্শ দিয়ে মান্না বলেছেন, তাতে ২-৩ জন মারা গেলেও অসুবিধা নেই। সরকার একটা ধাক্কা খাবে।
এদিকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে আরেক ফোনালাপে মান্না কোনো সেনা হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটলে তাতে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এতে তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত বা অবসরে যাওয়া কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে বসতে প্রস্তুত আছেন বলেও জানান।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় সংলাপ আয়োজনের উচ্চকণ্ঠ মাহমুদুর রহমান মান্না ২০০৭ সালের সেনা তত্ত্বাবধানে ওয়ান/ইলেভেনের সময়ও বিতর্কিত হয়েছিলেন এবং বর্তমানেও সেরকম অবস্থা ফিরে আসতে পারে বলে বিভিন্নভাবে বলে যাচ্ছিলেন।
এই ফোনালাপ নিয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মান্না। সেখানে তিনি লিখেছেন, বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে তার ফোনালাপকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মান্না বলেন, তিনি সবসময়ই সহিংসতা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে।
বিএনপি'র আন্দোলন প্রসঙ্গে দলটির নেতা সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে যে আলাপ হয়েছে, তাতে ষড়যন্ত্রের কোন গন্ধ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে দু'একটা লাশ পড়ে যাওয়া এবং সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে খোকার সঙ্গে যে আলাপ হয়েছে তাও বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলে দাবি মান্নার।