দেশে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সহিংসতার এক নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে বিএনপি-জামাত নেতৃত্বাধীন ২০ দলের ডাকা দুই মাসের টানা অবরোধ-হরতালে। এতে নিহত হয়েছেন ১১৫ জন আর এর মধ্যে আন্দোলনকারীদের ছোঁড়া পেট্রোলবোমার আগুনে পুড়ে মারা গেছেন ৬২ জন।
দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা আর বিপর্যস্ত শিক্ষা ও পরিবহণ খাত। এ সংকট উত্তরণে নাগরিক উদ্যোগ, কুটনৈতিক তৎপরতা সাফল্যের মুখ দেখেনি। সংলাপের প্রস্তাব সরাসির নাকচ করেছে সরকার।
আর বিএনপি-জামাতও অনড় তাদের সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রত্যাহার না করার প্রশ্নে। ফলে আতঙ্কের জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ডাকা টানা দুই মাসের অবরোধে ছাড়াও মরার উপর খাড়ার ঘায়ের মতো ৯ দফায় দেয়া হয়েছে হরতাল। এ সব কর্মসূচিতে স্বতস্ফূর্ত জন সাড়া না থাকায় শুরু হয় সহিংসতা। অবরোধ-হরতালকারীদের পেট্রোল বোমার আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন ৬২ জন।
এরমধ্যে ৭ জন শিশু, ৯ জন নারী, ৫ জন ছাত্র, ২ জন প্রবাসী, ৯ জন ট্রাক চালক, ১১ জনহেলপার, ৯ জন শ্রমিক ও দিনমজুর। এর ফলে হাসপাতালগুলোর বার্ন ইউনিটে শুধু পোড়া মানুষের আর্তনাদ আর স্বজনহারাদের হাহাকার।
ক্ষমতার পালাবদলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এ রকম সহিংসতা আর দীর্ঘসূত্রিতা দেশের ইতিহাসে আর নেই।
এর আগে ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর বিএনপি সরকারের পদত্যাগের দাবীতে আওয়ামী লীগ টানা ২০ দিন অসহযোগ কর্মসূচি পালন করলেও, সাধারণ মানুষ সহিংসতার টার্গেটে পরিণত হয়নি। এবারের সংকট উত্তরণে দেরিতে হলেও নাগরিকরা যেমন একদিকে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছেন আর অন্যদিকে কারো কারো বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও উঠেছে।
ব্যবসায়ীরা- সংস্কৃতি কর্মিরাও নেমেছেন রাজপথে, কাজের কাজ হয়নি। সফল হয়নি প্রভাবশালী দেশের কুটনৈতিকদের তৎপরতাও। তারা সবাই সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানালেও বিএনপি-জামাত যেমন তা কানে তুলছে না, সরকারও নাকচ করে যাচ্ছে সংলাপের প্রস্তাব।
ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিদনই ঘর থেকে জীবিকার জন্য বের হচ্ছেন আতংককে সঙ্গী করে। নিকট ভবিষ্যতে, কোনো আশার আলো পৌঁছবে কি না তাদের যাপিত জীবনে, এ প্রশ্নের উত্তরও অজানা।