যৌক্তিক পরিণতিতে না পৌঁছা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে—এক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় হতে ও আন্দোলনে সাময়িক কষ্ট সহ্য করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
শুক্রবার গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সরকারকেই সঙ্কট নিরসনের উদ্যোগ নিতে হবে— উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। সভা-সমাবেশ, মিছিল কর্মসূচি পালনের ওপর থেকে বিধি নিষেধ প্রত্যাহার করতে হবে। এরপর সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা দ্রুত নির্বাচন দেয়ার অঙ্গীকার করেও তা রাখেননি। তার সেই প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে ৫ জানুয়ারির পর বিএনপির আন্দোলন থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।
বর্তমান সংকট সমাধানের উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে— এর জন্য ৩টি পয়েন্ট তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এগুলো হলো :
১. গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধ, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যা ও বিচার বহির্ভূত হত্যার সুষ্ঠু বিচার।
২. সভা সমাবেশসহ কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
৩. একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অবিলম্বে সংলাপের আয়োজন।
তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের ডাকা অবরোধ-হরতাল নিয়ে কোনো কথা বলেননি বিএনপি চেয়ারপারসন। সংবাদ সম্মেলন সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নেরও উত্তর দেননি খালেদা জিয়া।
এর আগে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে খালদা জিয়ার প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতি এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবস্থান ব্যাখ্যা করতেই এ সংবাদ সম্মেলন করবেন বিএনপি নেত্রী।
এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদসহ আন্দোলন চলাকালে সারাদেশে গুম, খুন, ক্রসফায়ার, গ্রেপ্তার এবং মামলা-হামলার শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের একটি বিবরণ দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা হবে।
সংলাপে বসতে দেশের নাগরিক সমাজের উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক মহলের আহ্বানকে কটাক্ষ করে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্যের বিষয়েও দেশবাসীর কাছে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।
সর্বশেষ ৫৩ দিন আগে গত ১৯ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।