‘নিখোঁজ’ হওয়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিষ্ঠুর পরিহাস করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বরকত উল্লাহ দলীয় বক্তব্য তুলে ধরে অবিলম্বে সালাহ উদ্দিনের ‘মুক্তি’ কিংবা আদালতে হাজিরের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বানও আহ্বান জানান।
সালাহ উদ্দিন আহমদের ‘নিখোঁজে’র পর তিনিই বিএনপির পক্ষে বিবৃতিতে দিয়ে আসছেন।
সালাহ উদ্দিন আহমদের ‘নিখোঁজ’ হওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে পেশাজীবী মহাসমাবেশে বলেছেন, ‘তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আমরা তাকে অ্যারেস্ট করার জন্য খুঁজছি। তিনি কোথায়, তার জবাব খালেদা জিয়াই দিতে পারবেন। সালাহ উদ্দিন আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে বিবৃতি দিচ্ছিলেন। কিন্তু সবাই জানে, তিনি ওখান থেকেই (গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়) বিবৃতি দিয়েছেন। আট বস্তা ময়লার সঙ্গে তাকেও কোথাও পাচার করে দিয়েছেন কি না, সে জবাব খালেদা জিয়াই দিতে পারবেন।’
প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সমালোচনা করে বিবৃতিতে বরকত উল্লাহ বলেন, ‘সালাহ উদ্দিনকে খালেদা জিয়া ময়লার বস্তায় পাচার করে দিয়ে থাকতে পারেন বলে প্রধানমন্ত্রী যে অবাস্তব, আজগুবি ও নিষ্ঠুর পরিহাস করেছেন। এর নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই।’
তিনি বলেন, দেশবাসী তার কাছ থেকে দায়িত্বশীল বক্তব্য আশা করে; দায়িত্বহীন ও বিকৃত মানসিকতার মশকরা নয়। এমন একটি গুরুতর বিষয় নিয়ে এ ধরনের বিদ্রূপাত্মক উক্তি করে সরকার তার দায় এড়াতে পারে না।
বরকত উল্লাহ বলেন, ‘বহু রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে অপহরণ, গুম ও খুন করে তা হজম করতে করতে বর্তমান অবৈধ সরকারের দুঃসাহস এতোটাই বেড়েছে যে, তারা ক্রমাগত ওপরের দিকে হাত বাড়াচ্ছে। সালাহ উদ্দিন এদের নিষ্ঠুর দুঃসাহসিকতার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত। অনতিবিলম্বে জনাব সালাহ উদ্দিনকে মুক্তি দেয়ার কিংবা আদালতে হাজির করার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে উদ্ভূত অবস্থার দায়ভার এই অবৈধ খুনি সরকারকেই বহন করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ কখনো খুনি সরকারকে সহ্য করে না।’
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সালাহ উদ্দিন আহমদকে রাতের অন্ধকারে রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি বাসা থেকে চোখ বেঁধে হাতকড়া পরিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
বরকত উল্লাহ বলেন, ‘সালাহ উদ্দিনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর পাঁচ দিন অতিবাহিত হতে চলেছে। এই দীর্ঘ সময়েও তাকে ছেড়ে দেয়া কিংবা আদালতে হাজির করা হয়নি। উপরন্তু সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গ্রেপ্তারের কথাও অস্বীকার করে চলেছে। এতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সালাহ উদ্দিনের স্ত্রীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঊচ্চ আদালত থেকে এ উদ্বেগজনক ঘটনার ব্যাপারে রুল জারি করা সত্ত্বেও সরকার সম্পূর্ণ নির্বিকার।’
বিবৃতিতে বরকত উল্লাহ বলেন, ‘যতোই সময় যাচ্ছে সালাহ উদ্দিনের নিরাপত্তার ব্যাপারে আমাদের, তার পরিবারের ও দেশবাসীর উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে। কারণ এ সরকার আমলে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, সাবেক সাংসদ সাইফুল ইসলাম, বিএনপি নেতা হুমায়ুন পারভেজ ও ঢাকার নির্বাচিত কমিশনার চৌধুরী আলমসহ বিরোধী শত শত নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের পর অস্বীকার এবং গুম ও খুন করার ভয়ংকর নজির স্থাপিত হয়েছে। আবার গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকারের পর নানা রকম নাটক সাজিয়ে অনেক বিলম্বে আটক দেখানোরও উদাহরণ রয়েছে। সালাহ উদ্দিনের ব্যাপারে এ সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তার ভাগ্যে কী ঘটেছে বা ঘটতে যাচ্ছে—তা এখনো আমাদের অজ্ঞাত। তবে আমরা তাকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।’