রাজনীতি

গণজোয়ার দেখে আ'লীগ দিশেহারা, সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়া
খালেদা জিয়া

আগামী ২৮ এপ্রিল সিটি নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে নিরব প্রতিশোধ নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

রোববার বিএনপি চেয়ারপারসনে গুলশান কার্যালয়ে ঢাকাসহ ৩ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের পক্ষে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ এনে তিনি ভোটারদের টাকা নিয়ে বিবেক অনুযায়ী ভোট দেয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি নির্বাচন কমিশনকে সরকারের আজ্ঞাবহ মন্তব্য করে সিটি নির্বাচনকে বিএনপি টেস্ট কেস হিসেবে নিয়েছে বলেও জানান খালেদা জিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে পূর্ণ ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়ের দাবি জানান খালেদা জিয়া।

এ সময় তিনি আরো বলেন, সেনা মোতায়েন না হলে এ সরকার জনগণের ভোট কেড়ে নেবে।

এ নির্বাচন কমিশন চরম পক্ষপাতদুষ্ট—এ কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, আমরার ওপর হামলার কোনো পদক্ষেপ তারা নেয়নি। কাজেই এ নির্বাচন কতোটা সুষ্ঠু হবে সেটা দেশবাসী জানেন।

সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে নির্বাচন কমিশেনর সিদ্ধান্ত প্রতারণামূলক বলে –মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, এ নির্বাচনে কারচুপি হলেই প্রমাণিত হবে এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। জনগণের প্রতি আস্থার কারণেই বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।

ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ জনগণের সুযোগ পেলে নীরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে এ সরকারের অপতৎপরতার জবাব দেবে বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। এ সময় ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যাওয়া আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি অভিযোগ করেন, প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে রাজনীতিকভাবে কোণঠাসা করে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ ও ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকনকে আইনশৃঙ্খলা পরিচয়ে ধরে নেয়া হয়েছে- অভিযোগ করে তিনি বলেন, 'এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে দেশে সাধারণ মানুষের ন্যূনতম কোনো নিরাপত্তা নেই।'

খালেদা জিয়া বলেন, 'দেশে একটি সরকার আছে; কিন্তু যেহেতু তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তাই মানুষের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তারা বিরোধীদলের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ স্তব্ধ করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত রেখেছে।'

এ সময় সাভারের ব্যাংক ডাকাতির কথাও উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, দেশে কোনো কিছুরই নিরাপত্তা নেই।

এ দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক প্রিয়, গণতন্ত্রকে বার বার উদ্ধার করা হয়েছে। কারণ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আবার সেই গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে সেই গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করি।

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। সিটি নির্বাচনে তারা প্রচারণা চালাতে পারেননি।

সিটি নির্বাচনে প্রচারণার নেমে আমি দেশে জনগণের জনজোয়ার দেখে অভুভূত হয়েছি। আমার কাছে ক্ষমতা নেই তবে দেশের জনগণের উচ্ছ্বাস দেখে আমি সত্যই অভিভূত। তারা সরকারের পরিবর্তন চায়।

আওয়ামী লীগ সরকার এতোদিন প্রচার করে আসছে ২০ দলের কোনো জনপ্রিয়তা নেই, কিন্তু যখনই আমি রাস্তায় নেমেছি তখন দেখেছি রাস্তায় মানুষের জোয়ার সেই দেখে আওয়ামী লীগ সরকার ভয় পেয়েছে। তাই আমার হামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিএনপির এই নেত্রী বলেন, গণজোয়ার দেখে আওয়ামী লীগ দিশেহারা হয়ে গেছে। তাদের সব হিসাব পাল্টে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া বলেন, হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ. ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমার ওপর হামলা করেছে। তবুও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। কারণ তারা আওয়ামী লীগ। আর এ ঘটনায় সাহায্য করেছে পুলিশ। আর প্রধানমন্ত্রী যেভাবে এটাকে দেখেছেন সেটাতে আমি মর্মাহত।

আমার ওপর বার বার হামলাকারা হচ্ছে, হামলাকারী সনাক্তরা করা হলেও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। বরং আমাদের কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের প্রতিবাদে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শুরু করেন। কিন্তু সেই কর্মসূচি চলাকালে যানবাহনে রহস্যজনক বোমা হামলা হয়েছে। এসব হামলায় অনেক নিরপরাধ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, সশস্ত্র পাহারা চলাকালে কীভাবে এসব হামলা হয়?

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘হত্যা, নাশকতা সন্ত্রাস ও লাশের রাজনীতি আমরা করি না। সন্ত্রাস নির্ভর নষ্ট রাজনীতির চ্যাম্পিয়ন আওয়ামী লীগ। মানুষ হত্যা করে তার দায় বার বার বিএনপির ওপর চাপানো হয়েছে। কিন্তু তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে

যে সরকার দেশের মানুষের সামাজিক অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা দিতে পারে না, নারীদের সম্মান দিতে পারে না তাদের লজ্জা হওয়া উচিত। তাদের উচিত পদত্যাগ করা বলে সংবাদ সম্মেলন জানান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সিটি নির্বাচনের প্রচারে নামার পর হামলার সম্মুখীন হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের চিঠি পাওয়ার মধ্যেই বেলা ২টায় গুলশানে নিজের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে আসেন খালেদা জিয়া।

আন্দোলনের কর্মসূচি সামনে রেখে গত ৩ জানুয়ারি থেকে একটানা ৯২ দিন গুলশান কার্যালয়ে অবস্থানের পর এ প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন খালেদা জিয়া। কার্যালয়ে অবস্থানকালে গত ১৩ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন তিনি।

৫ জানুয়ারি কার্যালয় থেকে বাসায় ফেরার পর গত সপ্তাহজুড়ে ঢাকায় ভোটের প্রচারে নামেন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে তিন দিন হামলার মুখেও পড়েন তিনি।

পাশাপাশি তার প্রচারে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সতর্ক করে শনিবারই চিঠি পাঠিয়েছেন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

রওশন এরশাদের সঙ্গে রাঙ্গা

বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে বিরোধী দলের নেতারা যা বলছেন

এবার আরেক উপদেষ্টাকে অব্যাহতি দিলেন জিএম কাদের

জোর-জবরদস্তির নির্বাচন হবে, এমন মেসেজ পাচ্ছি: জিএম কাদের

আমরণ অনশনের ঘোষণা ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের

আলোচিত মহিউদ্দিন মহারাজের মনোনয়ন প্রত্যাহার

প্রধানমন্ত্রী সকল যড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বীরদর্পে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে: মির্জা আজম

যা যা চাওয়া হয়েছে ভারত সব দিয়েছে: সেতুমন্ত্রী

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ