ভারতের শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমদের মানসিক বিপর্যয় এখনো কাটেনি। তিনি ভীতি, উত্কণ্ঠা ও আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন— কোনো কথা মনে রাখতে পারছেন না।
রোববার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি।
এ সময় তিনি দাবি করেন সালাহ উদ্দিন আহমেদের ‘স্মৃতিভ্রম’ দেখা দিয়েছে –এ কথা উল্লেখ করে আবদুল লতিফ বলেন, তিনি এখনো ভীতি, উত্কণ্ঠা ও আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
তিনি বলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের মানসিক বিপর্যয়ের রেশ এখনো রয়ে গেছে। তাই তার বলা কথাগুলো জড়িয়ে যাচ্ছে। স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদকের ভাষ্য, সালাহ উদ্দিন বার বার শুধু জানতে চাইছেন, তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ কখন শিলং আসবেন। তিনি (হাসিনা আহমদ) ভারতে আসার ভিসা পেলে খবরটা তাকে জানাতে বলেছেন। স্ত্রী কখন তার সামনে আসবেন, সে জন্য অধীর অপেক্ষায় আছেন তিনি।
জনি বলেন, এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি মানসিকভাবে সুস্থ আছেন, কিন্তু আমরা তার মধ্যে সে ধরনের লক্ষণ দেখিনি।
খোঁজ মেলার পর ৫৪ বছর বয়সী সালাহ উদ্দিন নিজেও হাসপাতালে পুলিশের কাছে দাবি করেন, গত ১০ মার্চ অচেনা এক দল লোক উত্তরার একটি বাড়ি থেকে তাকে ‘তুলে নেয়ার’ পর থেকে আর কিছুই তিনি ‘মনে করতে পারছেন না।
সিলেট সীমান্ত থেকে ১০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বের শিলংয়ে কীভাবে এলেন, তাও তিনি বলতে পারেননি।
১০ মার্চে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সালাহ উদ্দিনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ছিল পরিবারের। এরপর গত ১২ মে শিলং থেকে স্বামীর ফোন পাওয়ার কথা জানান সলাহ উদ্দিনপত্নী হাসিনা আহমেদ।
শিলং পুলিশ জানিয়েছে, অসংলগ্ন আচরণের কারণে তাকে প্রথমে একটি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তার বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগে একটি মামলাও হয়েছে সেখানে। তবে অসুস্থতার কারণে শনিবার তাকে আদালতে তোলা হয়নি।
হাসিনা আহমেদ আগামী দুই-একদিনের মধ্যে শিলং পৌঁছাবেন বলে জানিয়েছেন জনি। তার সঙ্গে দেখা করতে গত শুক্রবার শিলংয়ে যান জনি।