বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (শনিবার)। ১৯৮১ সালের এ দিনে চট্রগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়া ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। সামরিক শাসনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির পদে বহাল থেকে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।
এদিকে, ৩৪ বছরেও জিয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া এবং এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান এখনো রহস্যজনক হিসেবেই রয়ে গেছে।
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৫৩ সালে কাকুল পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন জিয়াউর রহমান। কমিশন প্রাপ্ত হন ১৯৫৫ সালে। ১৯৭০-এ দায়িত্ব পান চট্রগ্রাম অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ডের।
১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ চট্রগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।
১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টর।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে হত্যার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি।
১৯৭৮ এ গঠন করেন জাগদল । ওই বছরই সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
রাষ্ট্রপতি থাকাকালে ১৯৮১ সালের ৩০ শে মে গভীর রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন জিয়াউর রহমান। অভ্যুত্থানের অভিযোগে সামরিক আইনে বিচার করে ফাঁসি দেয়া হয় বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকে।
তবে ৩৪ বছরেও জিয়া হত্যার বিচার হয়নি। ওই হত্যাকাণ্ডের কোনো আলামত, লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে বিএনপি দুবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এলেও এ হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচারকাজ নিয়ে পুরোপুরি নীরব থাকে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
বিভিন্ন সভা-সেমিনারে দলটির নেতারাও জিয়া হত্যাকান্ডের বিচার না হওয়াকে রহস্যজনক ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে, সাংবাদিক ও গবেষক মিজানুর রহমান খান জানান জিয়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ইতিহাসের অনেক অধ্যায় জড়িত। এ হত্যাকাণ্ডের বিচারে বিএনপি উদ্যোগী না হওয়ার সম্ভাব্য কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
তবে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মতো এই হত্যাকান্ডেরও বিচার হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন এ সাংবাদিক।