আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিল করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। রোববার দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সুপারিশ করা হয়।
দুপুরে আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস নির্বাচন কমিশনে গিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদকের চিঠিটি পৌঁছে দেন। নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম চিঠিটি গ্রহণ করেন।
কমিশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মৃণাল কান্তি দাস বলেন, লতিফ সিদ্দিকী আর আওয়ামী লীগের কেউ নন— তিনি আইনগতভাবেই ওই অধিকার হারিয়েছেন।
দলের সাধারণ সম্পাদকের চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৃণাল বলেন, ওই চিঠিতে লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের অনুরোধ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, তার বক্তব্য বাংলাদেশ ও বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে। যে কারণে ২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় লতিফ সিদ্দিকীকে দলের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।
চিঠিতে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইনে বলা হয়েছে, প্রার্থী মানে দল কর্তৃক মনোনীত বা স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ব্যক্তি। অর্থাৎ রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নির্বাচনের আগে ও পরে নেই। দলের সকল পদ থেকে বহিষ্কার হওয়ায় বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের কেউ নন। যে কারণে তিনি সংসদ সদস্যপদে থাকার আইনগত অধিকার হারিয়েছেন। তাই সংবিধানের ৬৬ (৪) অনুচ্ছেদ, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (১) ধারা এবং সংসদের কার্যপ্রণালীর ১৭৮ বিধি অনুযায়ী লতিফ সিদ্দিকীর সদস্যপদ বাতিলের অনুরোধ করছি।
গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামাত এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় মন্ত্রিসভা ও দল থেকে অপসারিত হন লতিফ সিদ্দিকী। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের ১৮টি জেলায় অন্তত ২২টি মামলা হয়। দেশে ফিরে আসার পর গত বছরের ২৫ নভেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানো হয়। হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে গত ২৯ জুন কারাগার থেকে ছাড়া পান তিনি।