সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিস্ক্রিয় ছিলেন এমন নেতাদের দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার উদ্যোগের পর বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আন্দোলনে ব্যর্থতার দায় একতরফাভাবে নিতে চাইছেন না তৃণমূলের নেতারা। এ জন্য তারা কেন্দ্রীয় এবং মহানগর নেতাদেরও সমানভাবে দুষছেন।
অনেকেই দাবি তুলেছেন, শুধু মাঠ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে নয়, যারা কেন্দ্রীয় পদে থেকে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
আর কেন্দ্রীয় নেতারাও বলছেন, এ নির্দেশনা তৃণমূল আর কেন্দ্রে সমানভাবেই কার্যকর হবে।
ঝিমিয়ে পড়া, বিপর্যস্ত দলকে গুছিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সম্প্রতি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, যারা দলীয় পদে থেকেও সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিস্ক্রিয় ছিলেন-তাদের সরে যেতে হবে।
তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ব্যর্থতার জন্য দল ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীর দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অনাগ্রহ আর আপোষকামীতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সব কর্মকাণ্ড ও তৎপরতাকে সাংগঠনিকভাবে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কথাও বলা হয়েছে চিঠিতে। এছাড়া, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব জেলা, উপজেলা, থানা ও পৌর কমিটি পুনর্গঠন করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে জেলা-উপজেলা, থানা পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠন সম্ভব নাও হতে পারে বলে মনে করছেন দলের তৃণমূল নেতারা। বেশিরভাগ নেতাকর্মীর নামে মামলা থাকা এবং তাদের পালিয়ে বেড়ানোকেই এর কারণ বলে তারা দাঁড় করাচ্ছেন।
কেন্দ্র থেকে পাঠানো চিঠিতে আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতি না পাওয়ার জন্য মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হলেও এই দায় এককভাবে নিতে নারাজ বিএনপির তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে পদ হারানোর ভয়ে মুখ খুলতে চাচ্ছেন না অনেকেই।
এ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও বললেন, এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্র আর তৃণমূলের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক হবে না, সমানভাবেই তা কার্যকর হবে।
তবে এ সিদ্ধান্তের ফলে তৃণমূলে দল চাঙ্গা হবে, এমনটাই আশা কেন্দ্রীয় নেতাদের।