জানুয়ারিতে ডাকা বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের অবরোধ প্রত্যাহার না করায় শঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর।
ওই অবরোধ আজ- সোমবার ২৮০ তম দিনে গড়াল।
এ অবরোধ ও হরতাল নিরাপত্তাহীনতার কারণ হতে পারে বলে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। এছাড়া, বাংলাদেশে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যায় কথিত জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের দায় স্বীকারের ঘটনায় বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদের ঊচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে যুক্তরাজ্যের সর্বশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, ভবিষ্যতে পশ্চিমা নাগরিকদের ওপর আরো হামলা হতে পারে।
গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫ টার দিকে সন্ত্রাসবাদের ঊচ্চ ঝুঁকি ও পশ্চিমাদের লক্ষ্য করে আবার হামলা হতে পারে শীর্ষক সতর্কবার্তাটি যুক্তরাজ্য পররাষ্ট্র দপ্তরেরে ওয়েব সাইট ও তাদের ফেসবুক বুক পেজে আপলোড করা হয়।
এতে বলা হয়, সরকার পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধ ও হরতালের ডাক দেয় বিএনপি জোট। এরপর কয়েক মাস অনেক মানুষ মারা যায়। এরমধ্যে গণপরিবহনের আগুন দেয়ার প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। যদিও এই হরতাল ও অবরোধ আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেয়া হয়নি। তবে এই রাজনৈতিক হানাহানি চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে কমে আসে।
তবে এই প্রতিবাদ ও আন্দোলন দ্রুতই সহিংসতায় রূপ নিতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে। সারা দেশে বিশেষ করে নগর ও মহানগরগুলোতে যেকোন সময়ে সহিংস হামলা, অগ্নি সংযোগ ও ভাঙচুর ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এ কারণে দেশটি এখানে বসবাসরত নাগরিক ও ভ্রমণ-ইচ্ছুকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে বড় লোকসমাগমস্থল, রাজনৈতিক দলের কার্যালয় এবং মিছিল-সমাবেশ স্থলে বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের সর্বোচ্চ ঝুকি রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় যুক্তরাজ্যের ওই সতর্কবার্তায়। বলা হয়, সম্প্রতি বিদেশি হত্যায় আইএস দায় স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে আরো বিদেশি নাগরিকরা তাদের হত্যার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশে বসবাসরত ও ভ্রমণ ইচ্ছুকদের জন্য সতর্ক বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তর।
এ বিষয়ে বিএনপির মুখপাত্র ও দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, এখন বিএনপির কোনো কর্মসূচি নেই।
বিএনপি দল পুনর্গঠনের কাজ করছে— অবরোধ প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো দেয়া হয়নি-এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রিপন আরো বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজে একাধিক অনুষ্ঠানে বলেছেন, এখন বিএনপির কোনো কর্মসূচি নেই।
চলতি বছরের এপ্রিলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ২০-দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি অবরোধ থাকা না থাকার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। এরপর আগস্টে ২০-দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সেই বৈঠকে অবরোধ প্রত্যাহারের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
অবরোধ প্রত্যাহার নিয়ে দলটি এখনো পর্যন্ত কোনো ঘোষণাও দেয়নি। মূলত মধ্য এপ্রিল থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের এই অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচি ‘অকার্যকর’হয়ে পড়ে।
এ নিয়ে কথা বলতে চাইলে দলটির নীতি নির্ধারকদের কেউই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি। কয়েকজন বলেছেন, এ বিষয়টি কেবল দলীয় চেয়ারপারসন পরিষ্কার করতে পারবেন।