রাজধানী বিভিন্ন জায়গায় মিছিল নিয়ে বের হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে পড়ে। বুধবার সকালে এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ উদ্ধার করা হয়েছে বিস্ফোরক।
যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ জানায়, সকাল ৮টার দিকে লাঠিসোঁটা ও ব্যানার নিয়ে জামাতের নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করেন। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে পুলিশ শটগানের গুলি ছুড়লে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
পুলিশের ওয়ারি বিভাগের উপকমিশনার নুরুল ইসলাম বলেন, জামাতের ছোড়া ইট-পাটকেলের জবাবে পুলিশ বাধ্য হয়ে শটগান থেকে ৮টি গুলি ছুড়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ব্যানার ও লাঠিসোঁটা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
মিরপুর, কাফরুল এলাকায় মিছিল নিয়ে বেরিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে জামাতের কর্মীরা, যে দলটির অধিকাংশ শীর্ষ নেতা মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ে কারাগারে রয়েছে।
জামাতের ওয়েবসাইটের তথ্য, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে আওয়ামী লীগ কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে হতাহতের প্রতিবাদে বুধবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার কথা জানায়। এরইমধ্যে যুদ্ধাপরাধের দায়ে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন হারায় দলটি।
এর অংশ হিসেবে সকালে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মিছিলের চেষ্টা করে জামাতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মীরা।
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি অবনী শঙ্কর কর সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কোনাপাড়া মুরগির ফার্ম এলাকায় মিছিল বের করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
জামাত-শিবিরের মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছেলে মিছিল থেকে পুলিশের দিকে ঢিল ও ককটেল ছোড়া তারা। পরে পুলিশ গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এর আগে ভোর ৪টার দিকে মিরপুরের দক্ষিণ পীরেরবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পেট্রোল বোমা ও ককটেলসহ জামাত-শিবিরের আট নেতাকর্মীকে আটক করা হয় বলে মিরপুর থানার ওসি ভূইয়া মাহাবুব হোসেন জানান।
তিনি বলেন, তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু পোস্টার, ধর্মীয় উস্কানিমূলক বই, পেট্রোল বোমা ও ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।”
আটকরা হলো- ইদ্রিস খান (২৪), আরিফুর রহমান (২৩), সাজ্জাদুল আলম (২৫), আবুল কাশেম (৫৫), আনোয়ার হোসেন (৩২), নবীর উদ্দিন (৩৭), আবু সাঈদ (৪৫) ও মাহবুব হোসেন (২৮)।
এদিকে সকাল সোয়া ৯টার দিকে মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকাতেও মিছিলের চেষ্টা করে জামাত-শিবির কর্মীরা।
কাফরুল থানার এসআই হেলেনা পারভীন জানান, সেখানে পুলিশ লাঠিপেটা করে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে চার জনকে আটক করে।