সমশের মবিনের পদত্যাগ দলে কোন সঙ্কট তৈরি করবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার দুপুরে সিলেটের শাহ পরান মাজারে জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফকরুল বলেন, দলের চেয়ারপারসন দেশে ফিরলে পরবর্তীতে কি করনীয়, তা নির্ধারণ করা হবে।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে স্বাস্থ্যগত সমস্যাকে দেখিয়েছেন শমসের মবিন চৌধুরী, ঘোষণাটিও এসেছে অনেকটা নাটকীয়ভাবে। তবে, এর নেপথ্যের কারণ মোটেই নাটকীয় ছিল না। প্রকাশ্যে না হলেও দীর্ঘদিন থেকেই মতবিরোধ চলছিল বিএনপির ২য় শীর্ষ নেতৃত্ব সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে।
৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের সঙ্গে শমসের মবিন চৌধুরীর ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই কথোপকথনে শমসের মবিনকে ভর্ৎসনা করেন তারেক রহমান।
বিএনপি এখন আর দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শের পথে নেই- নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্যও করেছেন শমসের মবিন।
এ বছরের শুরুতে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তারের পর কারাবন্দি থেকেছেন ৫ মাস। মে মাসে মুক্তির পর তেমন একটা সক্রিয় হননি দলীয় কার্যক্রমে। এর কারণ হিসেবে অনেকেই সরকারের সঙ্গে তার আঁতাতের কথা বলছেন।
তবে, এর বিপরীতে তথ্য রয়েছে, যা এর চেয়েও অনেক বেশি যুক্তিসংগত। বিএনপির তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অতিমাত্রায় দৌরাত্মই দলকে আজ সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
কারাগার থেকে মুক্তির পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে অনেকবার দেখা করতে চেয়েও তার সাক্ষাৎ পাননি শমসের মবিন চৌধুরী। খালেদা জিয়াকে শমসের মবিন সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণাও দেওয়া হয়েছিল ওই সময়।
এছাড়া, তার অগোচরেই দলের চেয়ারপারসনের কূটনৈতিক টিমে নিয়োগ দেয়া হয় শ্যামা ওবায়েদ ও তাবিথ আউয়ালের মতো অপেক্ষাকৃত জুনিয়রদের। সবকিছু মিলিয়ে বিএনপিতে অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলেন শমসের, যিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেক ঘনিষ্ঠ ছিলেন.ভাইস চেয়ারম্যান পদে থেকে দীর্ঘদিন দেখভাল করেছেন বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়টি। আর এসব কিছুর পেছনে খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে কর্মচারি স্তরের ছোটখাটো কারো কথায় এতো বড় বিসর্জন দেয়া উচিৎ হয়নি বলে শমসের মবিনকে উদ্দেশ্য করে নিজের ফেইসবুক পাতায় লিখেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান সোহেল।
এদিকে, বিএনপি নেতারা বলছেন, শমসের মবিনের পদত্যাগে দলের কোনো ক্ষতি হবে না।
এমন এক সময়ে তিনি বিএনপি ছাড়লেন যখন সরকার বিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা করতে ব্যর্থ হয়ে কঠিন এক সময় পার করছে বিএনপি। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দলের দুই নেতা জড়িত এমন অভিযোগ ওঠার পর রাজনৈতিকভাবে অনেকটা চাপের মধ্যে আছে দলটি। এ মুহুর্তে শমসের মবিনের পদত্যাগে নিঃসন্দেহে বিএনপি অনেকটা অস্বস্তিতেই পড়েছে।