বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
‘এখন তিনি বিদেশে বসে গুপ্তহত্যা শুরু করেছেন— যাকেই ধরা হয় তারা শিবিরের অথবা বিএনপির লোক কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যখনই দেশের মানুষ স্বস্তিতে তখনই এই হত্যাকাণ্ড, দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এই হত্যাকাণ্ড।’
সোমবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জেলহত্যা দিবস স্মরণে আওয়ামী লীগের আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
খুনের রাজত্ব কায়েম করে দেশকে ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে চেয়েছিল— খালেদা জিয়া একটা সন্ত্রাসী রাষ্ট্র তৈরি করেছিল। জিয়াউর রহমানের পথ ধরে তার স্ত্রী খুনের রাজত্ব কায়েম করেছিল।
অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জেলহত্যার মধ্যে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে মুক্তিযুদ্ধেরবিরোধীরা বলেও জানান শেখ হাসিনা।
খালেদা জিয়ার রাজনীতি মানুষ পুড়িয়ে মারার রাজনীতি— এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, রাজনীতিতে ব্যর্থ হয়ে আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি।
বিএনপির চেয়ারপারসনকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের মনে যখন শান্তি আসে তখনই অশান্তি শুরু হয়ে যায় একজনের কারণে। মানুষের শান্তি তিনি দেখতে পারেন না।
বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে গুপ্তহত্যা চালানো হচ্ছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গুপ্তহত্যা যারা করছে, তাদের কিছুকে খুঁজে বের করা হয়েছে। খুনিদের শাস্তি দেবই দেব, শুধু দেশের মানুষের সহযোগিতা চাই।’
গুপ্তহত্যা, খুন যাই করুক না কেন, বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পারবে না এ কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবে না।
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার বানচাল করার উদ্দেশ্যে বিদেশিসহ অন্যদের হত্যা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনে বিএনপিকে দায়ী করে তিনি বলেন, আমার লাখো শহীদের রক্তে রাঙা পতাকা তাদের (যুদ্ধাপরাধী) হাতে দিয়েছিল জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী। যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আজ যারা সাজাপ্রাপ্ত তারা তাদের কেবিনেটে বসিয়েছিল।
মানবতাবিরোধীদের বিচার না করে জিয়াউর রহমান তাদের পুরস্কৃত করেছিলেন— মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
বক্তব্যের শুরুতেই ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনাবলী তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, মোশতাক আহমেদের পর জিয়াউর রহমান খুনিদের পুনর্বাসিত করেছিলেন।
খুনিদের বিচার করা হয়নি, বরং বিভিন্নভাবে খুনিদের পুরস্কৃত করা হয়েছিল। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ দিয়ে বিচারের পথ বন্ধ করা হয়েছিলেন তিনি বলে জানান শেখ হাসিনা।
জিয়াউর রহমান খুনিদের রাজত্ব কায়েম করেছিল—এ মন্তব্য করে শেখ হাসিনা ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের শাসনামলের কথা তুলে ধরেন।
কাল- মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস, তবে প্রধানমন্ত্রী ওইদিন রাতেই নেদারল্যান্ডসে রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ায় সভাটি আজ- সোমবার অনুষ্ঠিত হলো।
জনসভায় আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাড়াও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর ছাড়াও সাধারণ জনগণউপস্থিত ছিলেন।