স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ফাঁকা মাঠ ছেড়ে দেবে না বিএনপি তারাও নির্বাচনে অংশ নেবে— জানিয়ে ছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে শনিবার সকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
তবে এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন বলেও জানান মওদুদ।
তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী (খালেদা জিয়া) খুব শিগগির দেশে ফিরবেন এবং এ বিষয়ে আমরা একটি বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নেব। খুব সম্ভবত আমরা নির্বাচনে যাব।’
মওদুদ বলেন, গত চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমরা অংশ নিয়েছি— এরপর ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি এবং সরকারের ব্যবহার দেখেছি সে ব্যবহার অব্যাহত থাকলে তা আমাদের প্রতিহত করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেয়া জাতীয় সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা মওদুদ বলেন, কে কী বলল, কিছু আসে যায় না। আমরা চেষ্টা করছি, বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন জোরদার করতে।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের প্রসঙ্গ তুলে মওদুদ বলেন, “সেদিন ইতিহাসের এক ক্রান্তিলগ্নে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে যে সরকার এসেছিল সেই সরকার জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে একদলীয় সরকারের পরিবর্তে বহুদলীয় সরকারের প্রবর্তন করে।
দিবসটি উপলক্ষে এর আগে সকাল থেকেই বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সংসদ ভবনের পাশে চন্দ্রিমা উদ্যানে আসতে থাকেন। সেখানে তারা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানান।
প্রসঙ্গত: ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর সেনাপ্রধানের দায়িত্বে আসেন জিয়াউর রহমান। এরপর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে একটি অভ্যুত্থান হয়; জিয়া হন গৃহবন্দি।
৭ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের আরেক সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়া। আর এর মধ্য দিয়ে জিয়া ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন
বিএনপি এ দিনটিকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ আওয়ামী লীগ ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ এবং জাসদ ‘সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান’ দিবস হিসাবে পালন করে।
দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। সর্বশেষ এই বছর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলটি অংশ নিলেও ভোটগ্রহণের মাঝ পথে কারচুপির অভিযোগ তুলে বর্জন করে। তবে আইন সংশোধন হওয়ায় ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় পৌর নির্বাচনের আঙ্গিক হবে ভিন্ন। বিএনপি অংশ নিলে তার দলের প্রার্থী দলীয় প্রতীক অর্থাৎ ধানের শীষ প্রতীক নিয়েই লড়বে।